মাগুরা সদর উপজেলার কুচিয়ামোড়া ইউনিয়নের বলুকগ্রামে সালিশি বৈঠক রক্তাক্ত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে জমি নিয়ে বিরোধ মেটাতে আয়োজিত সালিশে বাদশা মোল্যা (৫০) নামের এক ব্যক্তি নির্মমভাবে নিহত হন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ধান কাটাকে কেন্দ্র করে বর্গাচাষি আনোয়ার হোসেন ও জমির মালিক শিউলি খাতুনের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়, যা পরে হাতাহাতিতে গড়ায়। ওই ঘটনার জের ধরেই শুক্রবার স্থানীয়দের উপস্থিতিতে একটি সালিশি বৈঠক ডাকা হয়।
বৈঠক চলাকালে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আনোয়ারের ছেলে আবির (২২) হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে শিউলি খাতুনের আপন মামা বাদশা মোল্যার ওপর হামলে পড়ে। একপর্যায়ে সে হাতুড়ি দিয়ে বাদশার মাথা ও মুখে একাধিক আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা বাদশাকে উদ্ধার করে মাগুরা সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর গ্রামে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিশোধ হিসেবে প্রতিপক্ষের লোকজন আনোয়ারের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মাগুরা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক কৃষ্ণপদ বিশ্বাস জানান, নিহত ব্যক্তির মাথায় ও মুখে ভারী বস্তুর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, যা থেকে ব্যাপক রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আইয়ুব আলী বলেন, “বলুকগ্রামে সালিশি বৈঠকে এক ব্যক্তি হাতুড়ির আঘাতে নিহত হয়েছেন। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে। এখনো কেউ মামলা করেনি, তবে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ সমাজে নেমে এসেছে আতঙ্ক ও ক্ষোভের ছায়া। স্থানীয়দের দাবি, সালিশে এমন সহিংসতা রোধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি ও কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন।
স্টাফ রিপোর্টার 






















