০৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত মোশারফ, সখীপুরের বাড়িতে শোকের মাতম

 

সৌদি আরবে একটি আবাসিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মোশারফ হোসেন (৩৮) নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।

 

তিনি টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কীর্তনখোলা গ্রামের মধ্যপাড়া এলাকার মো. সুজাত আলীর ছেলে।

 

গতকাল রোববার বাংলাদেশ সময় রাত ৯টার দিকে সৌদি আরবের আল-খার্জ এলাকার একটি কম্পাউন্ডের আবাসিক ভবনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মোশারফ হোসেনের সঙ্গে কাজ করা একই এলাকার লোকজনও তাঁর মৃত্যুর খবর পরিবারকে নিশ্চিত করেন।

 

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট বছর আগে জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরবে পাড়ি জমান মোশারফ হোসেন। দুই বছর আগে তিনি সর্বশেষ দেশে এসেছিলেন। মৃত্যুর প্রায় আধা ঘণ্টা আগেও তিনি বড় ছেলে মাহিমের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন।

 

মোশারফের বড় ছেলে মাহিম (১৪) স্থানীয় একটি উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং ছোট ছেলে মিহান মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণিতে পড়ে।

 

মাহিম জানায়, গতকাল রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাবার সঙ্গে তার ভিডিও কলে কথা হয়। তখন তার বাবা ঈদের জন্য প্রয়োজনীয় কাপড়চোপড়সহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার কথা বলেন এবং পরে টাকা পাঠাবেন বলে জানান। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিনি নিহত হওয়ার খবর আসে।

 

স্বামীর মৃত্যুসংবাদে ভেঙে পড়েছেন মোশারফের স্ত্রী কবরী আক্তার। বিলাপ করে তিনি বলেন, এখন এই দুই সন্তান নিয়ে আমি কীভাবে চলব? আমাদের এখন কে দেখবে?

 

মোশারফের বাবা সুজাত আলী বলেন, আমার ছেলেকে তো আর ফিরে পাব না। অন্তত তার লাশটা যেন দেশে ফেরত আনা হয়। শেষবারের মতো তাকে দেখতে চাই।

 

এদিকে এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী নিহত মোশারফের বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন।

 

সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল রনী বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। মরদেহ দ্রুত দেশে আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

প্রয়োজনে বিমান টিকিট দেব, তবুও দেশে আসুন: হাসিনাকে তথ্য প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় হিফজ প্রতিযোগিতায় দেশসেরা দুই হাফেজ, নকলায় রাজকীয় সংবর্ধনা

06 November 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত মোশারফ, সখীপুরের বাড়িতে শোকের মাতম

পোষ্টের সময় : ০৪:২৩:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

 

সৌদি আরবে একটি আবাসিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মোশারফ হোসেন (৩৮) নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।

 

তিনি টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কীর্তনখোলা গ্রামের মধ্যপাড়া এলাকার মো. সুজাত আলীর ছেলে।

 

গতকাল রোববার বাংলাদেশ সময় রাত ৯টার দিকে সৌদি আরবের আল-খার্জ এলাকার একটি কম্পাউন্ডের আবাসিক ভবনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মোশারফ হোসেনের সঙ্গে কাজ করা একই এলাকার লোকজনও তাঁর মৃত্যুর খবর পরিবারকে নিশ্চিত করেন।

 

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট বছর আগে জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরবে পাড়ি জমান মোশারফ হোসেন। দুই বছর আগে তিনি সর্বশেষ দেশে এসেছিলেন। মৃত্যুর প্রায় আধা ঘণ্টা আগেও তিনি বড় ছেলে মাহিমের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন।

 

মোশারফের বড় ছেলে মাহিম (১৪) স্থানীয় একটি উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং ছোট ছেলে মিহান মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণিতে পড়ে।

 

মাহিম জানায়, গতকাল রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাবার সঙ্গে তার ভিডিও কলে কথা হয়। তখন তার বাবা ঈদের জন্য প্রয়োজনীয় কাপড়চোপড়সহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার কথা বলেন এবং পরে টাকা পাঠাবেন বলে জানান। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিনি নিহত হওয়ার খবর আসে।

 

স্বামীর মৃত্যুসংবাদে ভেঙে পড়েছেন মোশারফের স্ত্রী কবরী আক্তার। বিলাপ করে তিনি বলেন, এখন এই দুই সন্তান নিয়ে আমি কীভাবে চলব? আমাদের এখন কে দেখবে?

 

মোশারফের বাবা সুজাত আলী বলেন, আমার ছেলেকে তো আর ফিরে পাব না। অন্তত তার লাশটা যেন দেশে ফেরত আনা হয়। শেষবারের মতো তাকে দেখতে চাই।

 

এদিকে এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী নিহত মোশারফের বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন।

 

সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল রনী বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। মরদেহ দ্রুত দেশে আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।

 

Share this news as a Photo Card