০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৩ ডিসেম্বর: হানাদারমুক্ত নীলফামারীর গৌরবগাথা

 

আজ ১৩ ডিসেম্বর—নীলফামারী হানাদারমুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে পাক হানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত হয় নীলফামারী। বিজয়ের ক্ষণে শহরের আকাশে উড়েছিল লাল-সবুজের পতাকা, ‘জয় বাংলা’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠেছিল পুরো জনপদ। আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা—সবার চোখে ছিল মুক্তির আনন্দ ও বিজয়ের উল্লাস।

 

স্বাধীনতার আহ্বানে সাড়া দিয়ে নীলফামারীর সাহসী তরুণেরা ৭ মার্চের পরই মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে নীলফামারীর মাটিতে প্রাণ উৎসর্গ করেন ১৭ জন বীরযোদ্ধা। তাঁদের মধ্যে ক্যাপ্টেন এম এ বাশার, আলী হাসান, আহমদুল হক প্রধান, আনজারুল হক ধীরাজ, জাহরুল ইসলাম, মোজাম্মেল হক, মিজানুর রহমান, মির্জা হাবিবুর রহমানসহ অনেকে শহীদের মর্যাদায় ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।

 

মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক হানাদার বাহিনী নীলফামারী সরকারি কলেজ, কলেজ ছাত্রাবাস এবং ভোকেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট এলাকায় শক্তিশালী সেনা ক্যাম্প স্থাপন করে। এসব ঘাঁটি থেকে তারা বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী-পুরুষ ধরে এনে অমানবিক নির্যাতন চালায়। গণহত্যা, ধর্ষণ ও নির্মম নির্যাতনের ভয়াবহ নজির স্থাপন করে তারা। হাত-পা বেঁধে, চোখ বেঁধে গুলি করে হত্যা করে একাধিক মরদেহ গর্তে পুঁতে রাখার ঘটনাও ঘটে—যা আজও ইতিহাসের বেদনাদায়ক অধ্যায়।

 

নীলফামারী জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল গনি জানান, ১০ ডিসেম্বর থেকে মিত্রবাহিনী আকাশ ও স্থলপথে পাক বাহিনীর ওপর আক্রমণ শুরু করে। ১১ ও ১২ ডিসেম্বর আক্রমণ আরও তীব্র হলে পাক সেনারা ভীত হয়ে বিভিন্ন ক্যাম্প ছেড়ে পিছু হটে সৈয়দপুর সেনানিবাসে চলে যায়।

 

পালিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে আশপাশে অবস্থানরত মুক্তিযোদ্ধারা ১৩ ডিসেম্বর সকালে একযোগে শহরে প্রবেশ করেন। বাটার মোড় হয়ে চৌরাঙ্গী মোড়ে সমবেত হয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের মধ্য দিয়ে নীলফামারীকে শত্রুমুক্ত ঘোষণা করা হয় এবং স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করা হয়।

 

বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল গনি বলেন, সেদিনের বিজয়ের আনন্দ ছিল অবর্ণনীয়। স্বাধীনতা অর্জন যেমন গৌরবের, তেমনি তা রক্ষা করাও আমাদের সবার দায়িত্ব।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

প্রয়োজনে বিমান টিকিট দেব, তবুও দেশে আসুন: হাসিনাকে তথ্য প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় হিফজ প্রতিযোগিতায় দেশসেরা দুই হাফেজ, নকলায় রাজকীয় সংবর্ধনা

06 November 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

১৩ ডিসেম্বর: হানাদারমুক্ত নীলফামারীর গৌরবগাথা

পোষ্টের সময় : ১০:০৭:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫

 

আজ ১৩ ডিসেম্বর—নীলফামারী হানাদারমুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে পাক হানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত হয় নীলফামারী। বিজয়ের ক্ষণে শহরের আকাশে উড়েছিল লাল-সবুজের পতাকা, ‘জয় বাংলা’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠেছিল পুরো জনপদ। আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা—সবার চোখে ছিল মুক্তির আনন্দ ও বিজয়ের উল্লাস।

 

স্বাধীনতার আহ্বানে সাড়া দিয়ে নীলফামারীর সাহসী তরুণেরা ৭ মার্চের পরই মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে নীলফামারীর মাটিতে প্রাণ উৎসর্গ করেন ১৭ জন বীরযোদ্ধা। তাঁদের মধ্যে ক্যাপ্টেন এম এ বাশার, আলী হাসান, আহমদুল হক প্রধান, আনজারুল হক ধীরাজ, জাহরুল ইসলাম, মোজাম্মেল হক, মিজানুর রহমান, মির্জা হাবিবুর রহমানসহ অনেকে শহীদের মর্যাদায় ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।

 

মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক হানাদার বাহিনী নীলফামারী সরকারি কলেজ, কলেজ ছাত্রাবাস এবং ভোকেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট এলাকায় শক্তিশালী সেনা ক্যাম্প স্থাপন করে। এসব ঘাঁটি থেকে তারা বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী-পুরুষ ধরে এনে অমানবিক নির্যাতন চালায়। গণহত্যা, ধর্ষণ ও নির্মম নির্যাতনের ভয়াবহ নজির স্থাপন করে তারা। হাত-পা বেঁধে, চোখ বেঁধে গুলি করে হত্যা করে একাধিক মরদেহ গর্তে পুঁতে রাখার ঘটনাও ঘটে—যা আজও ইতিহাসের বেদনাদায়ক অধ্যায়।

 

নীলফামারী জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল গনি জানান, ১০ ডিসেম্বর থেকে মিত্রবাহিনী আকাশ ও স্থলপথে পাক বাহিনীর ওপর আক্রমণ শুরু করে। ১১ ও ১২ ডিসেম্বর আক্রমণ আরও তীব্র হলে পাক সেনারা ভীত হয়ে বিভিন্ন ক্যাম্প ছেড়ে পিছু হটে সৈয়দপুর সেনানিবাসে চলে যায়।

 

পালিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে আশপাশে অবস্থানরত মুক্তিযোদ্ধারা ১৩ ডিসেম্বর সকালে একযোগে শহরে প্রবেশ করেন। বাটার মোড় হয়ে চৌরাঙ্গী মোড়ে সমবেত হয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের মধ্য দিয়ে নীলফামারীকে শত্রুমুক্ত ঘোষণা করা হয় এবং স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করা হয়।

 

বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল গনি বলেন, সেদিনের বিজয়ের আনন্দ ছিল অবর্ণনীয়। স্বাধীনতা অর্জন যেমন গৌরবের, তেমনি তা রক্ষা করাও আমাদের সবার দায়িত্ব।

 

Share this news as a Photo Card