সিলেটে ক্রমাগত যোগাযোগ বিপর্যয় ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ আজ রোববার দুপুরে এক ঘন্টার জন্য দোকান ও যানবাহন বন্ধ রেখে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন। শহরের কোর্ট পয়েন্ট ও আশপাশের এলাকায় অনুষ্ঠিত এই আন্দোলনে অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরেই সিলেটবাসী অবহেলিত—ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক, রেলপথ, আকাশপথ ও নাগরিক সেবার ক্ষেত্রে উন্নয়ন কার্যত স্থবির হয়ে আছে।
এই প্রতিবাদ কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, “আর নীরব থাকা সম্ভব নয়—আমরা ১৫ দিনের মধ্যে দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখতে চাই।” তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও জানান, যদি প্রশাসন সময়মতো উদ্যোগ না নেয়, তাহলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে, যার দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে।
প্রতিবাদকারীরা তাদের আট দফা দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে—ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক দ্রুত সংস্কার, নতুন ট্রেন ও বগি সংযোজন, রেল টিকিটে অবৈধ ব্যবসা বন্ধ, বিমান ভাড়া যৌক্তিক করা, শহরের অভ্যন্তরীণ সড়ক উন্নয়ন, গ্যাস সংযোগ বৃদ্ধি, লোডশেডিং কমানো ও পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা।
প্রতিবাদ শেষে জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন আন্দোলনকারীরা, যেখানে সব দাবি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়। স্থানীয় প্রশাসন স্মারকলিপি গ্রহণ করে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনার আশ্বাস দেয়।
এ সময় বক্তারা বলেন, সিলেট দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও যোগাযোগ ব্যবস্থা এমনভাবে ভেঙে পড়েছে যে, নাগরিক জীবন অচল হয়ে পড়েছে। যানজট, রেলপথে বগির সংকট ও ফ্লাইট বাতিলের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ প্রতিদিনের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় নাগরিক সংগঠনগুলোর মতে, সিলেটবাসী বহু বছর ধরে কেন্দ্রীয় সরকারের অবহেলার শিকার হয়ে আসছে। আজকের এই প্রতিবাদ কেবল যোগাযোগ অব্যবস্থার বিরুদ্ধে নয়—এটি নাগরিক মর্যাদা ও ন্যায্য উন্নয়ন দাবিরও প্রতীক।
সামগ্রিকভাবে, এই কর্মসূচি সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও হতাশার প্রকাশ ঘটিয়েছে। শহরবাসী জানাচ্ছেন, এবার তারা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ—নিজেদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
স্টাফ রিপোর্টার 






















