-সম্পদ নেই, কিন্তু মানুষের প্রতি ভালোবাসাই তাঁর বড় পুঁজি। শেরপুরের ঝিনাইগাতীর তিনআনী বাজারে ঝালমুড়ি, শিঙাড়া, পেঁয়াজু ও বিরিয়ানি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন আব্দুর রশিদ। এলাকায় সবাই তাঁকে ‘রশিদ বাবুর্চি’ নামে চেনে। প্রতিদিন তাঁর আয় গড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা হলেও প্রতি শুক্রবার তিনি নিজের সামান্য আয়ে অসহায় মানুষের মুখে তুলে দেন বিনামূল্যের খাবার।
রশিদের ভাষায়, “যখন দেখি কেউ সারাদিন না খেয়ে আছে, তখন মনটা খুব কাঁদে। তাই ঠিক করলাম, সপ্তাহে একদিন অন্তত গরিবদের খাওয়াব।” শুরুটা করেছিলেন একাই, এখন এলাকাবাসীর সহযোগিতায় এটি একটি নিয়মিত উদ্যোগে পরিণত হয়েছে। প্রতি শুক্রবার তাঁর দোকানের সামনে শতাধিক দরিদ্র মানুষ সারিবদ্ধভাবে বসে খাবার খান, কেউ কেউ বাড়ির জন্যও কিছু নিয়ে যান।
স্থানীয় আনু ও মিজানসহ কয়েকজন মানুষ এই উদ্যোগে চাল, ডিম ও মাংস যোগান দেন, আর রশিদ নিজেই রান্না করেন। পাশে আছেন ডেকোরেটর দোকানি রাশেদ মিয়া ও ভুলু মিয়া। তাঁদের মতে, “অনেকের অর্থ আছে, কিন্তু রশিদ ভাইয়ের মতো মন নেই। তিনিই আমাদের অনুপ্রেরণা।”
খাবার নিতে আসা বৃদ্ধা মহিরন বেওয়া (৮০) বলেন, “ছেলে আছে, কিন্তু ওরই চলে না। তাই পথে পথে ভিক্ষা করি। আজ এই খিঁচুড়ি খেয়ে মনে শান্তি পাই।” একইভাবে আলিমুন ও হাজেরা বেগমের মতো বহু বৃদ্ধা জীবনের শেষপ্রান্তে এসে এই খাবারকে আশীর্বাদ মনে করেন।
স্থানীয় প্রশাসনও রশিদের মানবিক উদ্যোগে মুগ্ধ। ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, “অসহায় হয়েও তিনি যে মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা প্রশংসনীয়। প্রশাসন তাঁর পাশে থাকবে।”
রশিদের ইচ্ছা—এই কাজ যেন সমাজের অন্যান্য সক্ষম মানুষও অনুসরণ করে। তাঁর কথায়, “আমি একা যতটুকু পারি করি, কিন্তু যদি সবাই এগিয়ে আসে, তাহলে কোনো গরিব মানুষ ক্ষুধার কষ্ট পাবে না।”
স্টাফ রিপোর্টার 






















