০৩:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আগামী ৫ বছরে ৫০৩ উপজেলায় ১৫১ শয্যার হাসপাতাল হবে: প্রধানমন্ত্রী

 

দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে আগামী ২৭ আগস্ট শুরু হতে যাওয়া সংসদ অধিবেশনে ১০ বছর মেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনা উপস্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় ১৫১ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

 

শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি কলোনি মাঠে দরিদ্র ও অসহায়দের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার দেশের অর্থনীতিসহ প্রতিটি ব্যবস্থাকে ফোকলা করে দিয়ে গেছে। এখন বাংলাদেশের মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এই ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে গড়ে তুলতে হবে।

 

স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ৫০৩টি উপজেলার প্রত্যেকটিতে ১৫১ শয্যার উপজেলা হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। এসব হাসপাতালে মানুষ প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসাসেবা নিতে পারবেন।

 

তিনি বলেন, ‘আগামী ৫ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের ৫০৩টি উপজেলার ইনশাল্লাহ প্রত্যেকটিতে আমরা ১৫১ শয্যার উপজেলা হাসপাতাল তৈরি করব। যেখানে মানুষ তার প্রয়োজনমতো চিকিৎসা সুবিধা নিতে পারবে।’

 

বর্তমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিয়ে দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ যে বিদ্যুতের কষ্ট পাচ্ছেন, আমি আন্তরিকভাবে তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। কিন্তু এই সরকার আপনাদের সরকার এবং আমরা কাজ করছি যত দ্রুত সম্ভব মানুষকে এই কষ্টের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য।’

 

তিনি বলেন, আগামী ২৭ আগস্ট যে সংসদ অধিবেশন শুরু হবে, সেখানেই জনগণের সামনে আগামী ১০ বছরে দেশের জ্বালানি সমস্যার সমাধানে সরকারের পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হবে।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী যে সংসদ ২৭ তারিখে শুরু হবে, এই সংসদেই আমরা বাংলাদেশের জনগণের সামনে উপস্থাপন করব– আগামী ১০ বছর আমরা কীভাবে এই দেশের মানুষের জন্য জ্বালানি সমস্যার সমাধান করব, সেই পরিকল্পনা দেব।’

 

গ্যাস সংকট সমাধানে সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিগত সরকার তৃতীয় এলএনজি জাহাজের অনুমতি বাতিল করেছিল। এখন নতুন করে সেই অনুমতি নিতে হচ্ছে।

 

চীন এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, তৃতীয় জাহাজটি চলে এলে গ্যাস সংকট অনেকাংশে কমে যাবে। তবে জাহাজ প্রস্তুত করতে সময় লাগে বলে তিনি দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।

 

সম্প্রতি বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাবিতে একটি রাজনৈতিক দলের হারিকেন হাতে প্রতিবাদের সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

 

তিনি বলেন, ‘দু’দিন আগে দেখলাম একটি দলের কিছু সদস্য গ্যাস-বিদ্যুৎ চেয়ে সামনে হারিকেন নিয়ে বসে আছে। অথচ তাদের পেছনে ফ্যান চলছে, তারা ফ্যানের বাতাস খাচ্ছে। এই হচ্ছে তাদের হঠকারিতা।’

 

রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করার রাজনীতি বাদ দিতে হবে। বাস্তবসম্মত কোনো পরিকল্পনা থাকলে তা সংসদে উপস্থাপনের আহ্বান জানান তিনি।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের কাছে যদি এমন কোনো বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা থাকে যা আগামী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে সমস্যার সমাধান করতে পারবে, তবে সংসদে নিয়ে আসুন। আমরা আপনাদের পরিকল্পনাই বাস্তবায়ন করবো। আর যদি কেবল বিভ্রান্ত করার জন্য এসব বলে থাকেন, তবে জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।’

 

বিগত সরকারের আমলে বিএনপির নেতাকর্মীদের আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছর বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথে থেকে আন্দোলন করেছেন।

 

তিনি বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রত্যেকটি নেতাকর্মী যুদ্ধ করে এই রাজপথেই টিকেছিল। আজ যারা বড় বড় গলা উঁচু করে বিভ্রান্তিকর কথা বলছে, গত ১৭ বছর মানুষ আপনাদেরকে রাজপথে দেখতে পায়নি।’

 

বিগত দিনে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর গুম, খুন ও নির্যাতনের চিত্র পত্রিকার পাতা খুঁজলেই পাওয়া যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

তিনি বলেন, ‘রাস্তায় বসে ভাঙচুর করা বা বিশৃঙ্খলা তৈরি করার দিন শেষ। জনগণ এখন সেই রাজনীতি আর সমর্থন করে না। মুরোদ থাকলে শার্টের হাতা গুটিয়ে, কোদাল হাতে মাঠে নামুন, মানুষের জন্য কাজ করুন।’

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

কেন্দুয়ায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২ এর শুভ উদ্বোধন

ইউক্রেনের স্কুলভবনে রুশ বোমা হামলায় নিহত ৩৩, নিখোঁজ ৫০

04 November 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

আগামী ৫ বছরে ৫০৩ উপজেলায় ১৫১ শয্যার হাসপাতাল হবে: প্রধানমন্ত্রী

পোষ্টের সময় : ০৯:১৩:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

 

দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে আগামী ২৭ আগস্ট শুরু হতে যাওয়া সংসদ অধিবেশনে ১০ বছর মেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনা উপস্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় ১৫১ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

 

শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি কলোনি মাঠে দরিদ্র ও অসহায়দের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার দেশের অর্থনীতিসহ প্রতিটি ব্যবস্থাকে ফোকলা করে দিয়ে গেছে। এখন বাংলাদেশের মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এই ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে গড়ে তুলতে হবে।

 

স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ৫০৩টি উপজেলার প্রত্যেকটিতে ১৫১ শয্যার উপজেলা হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। এসব হাসপাতালে মানুষ প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসাসেবা নিতে পারবেন।

 

তিনি বলেন, ‘আগামী ৫ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের ৫০৩টি উপজেলার ইনশাল্লাহ প্রত্যেকটিতে আমরা ১৫১ শয্যার উপজেলা হাসপাতাল তৈরি করব। যেখানে মানুষ তার প্রয়োজনমতো চিকিৎসা সুবিধা নিতে পারবে।’

 

বর্তমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিয়ে দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ যে বিদ্যুতের কষ্ট পাচ্ছেন, আমি আন্তরিকভাবে তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। কিন্তু এই সরকার আপনাদের সরকার এবং আমরা কাজ করছি যত দ্রুত সম্ভব মানুষকে এই কষ্টের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য।’

 

তিনি বলেন, আগামী ২৭ আগস্ট যে সংসদ অধিবেশন শুরু হবে, সেখানেই জনগণের সামনে আগামী ১০ বছরে দেশের জ্বালানি সমস্যার সমাধানে সরকারের পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হবে।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী যে সংসদ ২৭ তারিখে শুরু হবে, এই সংসদেই আমরা বাংলাদেশের জনগণের সামনে উপস্থাপন করব– আগামী ১০ বছর আমরা কীভাবে এই দেশের মানুষের জন্য জ্বালানি সমস্যার সমাধান করব, সেই পরিকল্পনা দেব।’

 

গ্যাস সংকট সমাধানে সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিগত সরকার তৃতীয় এলএনজি জাহাজের অনুমতি বাতিল করেছিল। এখন নতুন করে সেই অনুমতি নিতে হচ্ছে।

 

চীন এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, তৃতীয় জাহাজটি চলে এলে গ্যাস সংকট অনেকাংশে কমে যাবে। তবে জাহাজ প্রস্তুত করতে সময় লাগে বলে তিনি দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।

 

সম্প্রতি বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাবিতে একটি রাজনৈতিক দলের হারিকেন হাতে প্রতিবাদের সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

 

তিনি বলেন, ‘দু’দিন আগে দেখলাম একটি দলের কিছু সদস্য গ্যাস-বিদ্যুৎ চেয়ে সামনে হারিকেন নিয়ে বসে আছে। অথচ তাদের পেছনে ফ্যান চলছে, তারা ফ্যানের বাতাস খাচ্ছে। এই হচ্ছে তাদের হঠকারিতা।’

 

রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করার রাজনীতি বাদ দিতে হবে। বাস্তবসম্মত কোনো পরিকল্পনা থাকলে তা সংসদে উপস্থাপনের আহ্বান জানান তিনি।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের কাছে যদি এমন কোনো বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা থাকে যা আগামী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে সমস্যার সমাধান করতে পারবে, তবে সংসদে নিয়ে আসুন। আমরা আপনাদের পরিকল্পনাই বাস্তবায়ন করবো। আর যদি কেবল বিভ্রান্ত করার জন্য এসব বলে থাকেন, তবে জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।’

 

বিগত সরকারের আমলে বিএনপির নেতাকর্মীদের আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছর বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথে থেকে আন্দোলন করেছেন।

 

তিনি বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রত্যেকটি নেতাকর্মী যুদ্ধ করে এই রাজপথেই টিকেছিল। আজ যারা বড় বড় গলা উঁচু করে বিভ্রান্তিকর কথা বলছে, গত ১৭ বছর মানুষ আপনাদেরকে রাজপথে দেখতে পায়নি।’

 

বিগত দিনে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর গুম, খুন ও নির্যাতনের চিত্র পত্রিকার পাতা খুঁজলেই পাওয়া যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

তিনি বলেন, ‘রাস্তায় বসে ভাঙচুর করা বা বিশৃঙ্খলা তৈরি করার দিন শেষ। জনগণ এখন সেই রাজনীতি আর সমর্থন করে না। মুরোদ থাকলে শার্টের হাতা গুটিয়ে, কোদাল হাতে মাঠে নামুন, মানুষের জন্য কাজ করুন।’

 

Share this news as a Photo Card