০১:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজ বিশ্ব মা দিবস: নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের নাম ‘মা’

 

আজ বিশ্ব মা দিবস। পৃথিবীর প্রতিটি মায়ের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, ত্যাগ, স্নেহ ও সংগ্রামের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর একটি বিশেষ দিন। প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালন করা হয়। বাংলাদেশসহ নানা দেশে আজকের দিনটি পালিত হচ্ছে অত্যন্ত আবেগঘন পরিবেশে।

 

মা—এই ছোট্ট শব্দের মধ্যে লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ও গভীর ভালোবাসা। একজন মা শুধু সন্তান জন্মই দেন না, বরং নিজের সমস্ত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ত্যাগ করে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়তে উৎসর্গ করেন নিজেকে। তিনি হলেন প্রথম শিক্ষক, প্রথম বন্ধু এবং সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়। সন্তানের হাসি, কান্না, ব্যথা ও আনন্দ—সবকিছুর সঙ্গেই একজন মা ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকেন।

 

যেভাবে এলো মা দিবসের প্রচলন?

মা দিবসের ধারণাটি প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে জনপ্রিয়তা পায় যুক্তরাষ্ট্রে। আমেরিকান সমাজকর্মী অ্যানা জার্ভিস তাঁর মা অ্যান রিভস জার্ভিস–এর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১৯০৮ সালে প্রথম মা দিবস উদ্‌যাপন করেন। অ্যানা জার্ভিস চেয়েছিলেন, এমন একটি দিন থাকুক যখন সব সন্তান তাদের মায়েদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাবে। তাঁর নিরলস প্রচেষ্টার ফলে ১৯১৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারকে জাতীয় মা দিবস হিসেবে ঘোষণা দেন। পরে এটি আন্তর্জাতিকভাবে পালিত হতে শুরু করে।

 

বিশ্ব মা দিবসে আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে পারিবারিক পরিসর পর্যন্ত মায়েদের ঘিরে আবেগঘন ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ দেখা যাচ্ছে। কেউ নিজের মাকে নিয়ে লিখছেন কবিতা, কেউ ছবি পোস্ট করে জানাচ্ছেন কৃতজ্ঞতা। আবার অনেকেই মায়ের হাতে তুলে দিচ্ছেন ছোটখাটো উপহার, কার্ড কিংবা একটি আন্তরিক চিঠি। যদিও মায়ের ভালোবাসার জন্য প্রতিদানে কিছুই যথেষ্ট নয়, তবুও এই দিনে সন্তানরা চেষ্টা করে মায়ের প্রতি তাদের অনুভূতি প্রকাশ করতে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, মা দিবস কেবল একটি আনুষ্ঠানিক দিন নয়, বরং এটি মায়েদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক উপলক্ষ। তারা বলেন, একটি শিশুর নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও মানবিক গুণাবলি গঠনে মায়ের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি। তাই মায়েদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন শুধু একটি দিনের নয়, বরং প্রতিদিনের অভ্যাস হওয়া উচিত।

 

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণেও মায়ের মর্যাদা সর্বোচ্চ। ইসলাম ধর্মে বলা হয়েছে, “জান্নাত মায়ের পায়ের নিচে।” হিন্দু ধর্মেও মাতৃরূপে দেবীর উপাসনা করা হয়। সকল ধর্ম ও সংস্কৃতির মাঝেই মাকে সর্বোচ্চ সম্মান দেওয়া হয়েছে।

 

তবে এই দিনে এক দিক থেকে সচেতন হওয়ারও সময় এসেছে—আমাদের সমাজে এখনও অনেক মা রয়েছেন, যারা অবহেলিত, নির্যাতিত বা উপেক্ষিত। বৃদ্ধাশ্রমে বসবাসকারী মা, অর্থনৈতিক কষ্টে জর্জরিত একক মা কিংবা পেশাগত জীবনে লড়াই করা মা—তাঁদের দুঃখ ও সংগ্রামের কথাও মনে রাখা উচিত। মা দিবস শুধু আনন্দের দিন নয়, বরং এটি এক ধরনের দায়িত্বও—মায়েদের সম্মান ও অধিকার নিশ্চিত করার।

 

আজকের দিনে আমাদের উচিত প্রতিজ্ঞা করা, প্রতিটি মা যেন পান তাঁর প্রাপ্য ভালোবাসা, সম্মান ও নিরাপত্তা। কারণ একজন মা তাঁর সন্তান ও পরিবারের জন্য যে আত্মত্যাগ করেন, তার তুলনা হয় না।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

প্রয়োজনে বিমান টিকিট দেব, তবুও দেশে আসুন: হাসিনাকে তথ্য প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় হিফজ প্রতিযোগিতায় দেশসেরা দুই হাফেজ, নকলায় রাজকীয় সংবর্ধনা

06 November 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

আজ বিশ্ব মা দিবস: নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের নাম ‘মা’

পোষ্টের সময় : ১২:১২:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ মে ২০২৫

 

আজ বিশ্ব মা দিবস। পৃথিবীর প্রতিটি মায়ের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, ত্যাগ, স্নেহ ও সংগ্রামের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর একটি বিশেষ দিন। প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালন করা হয়। বাংলাদেশসহ নানা দেশে আজকের দিনটি পালিত হচ্ছে অত্যন্ত আবেগঘন পরিবেশে।

 

মা—এই ছোট্ট শব্দের মধ্যে লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ও গভীর ভালোবাসা। একজন মা শুধু সন্তান জন্মই দেন না, বরং নিজের সমস্ত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ত্যাগ করে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়তে উৎসর্গ করেন নিজেকে। তিনি হলেন প্রথম শিক্ষক, প্রথম বন্ধু এবং সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়। সন্তানের হাসি, কান্না, ব্যথা ও আনন্দ—সবকিছুর সঙ্গেই একজন মা ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকেন।

 

যেভাবে এলো মা দিবসের প্রচলন?

মা দিবসের ধারণাটি প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে জনপ্রিয়তা পায় যুক্তরাষ্ট্রে। আমেরিকান সমাজকর্মী অ্যানা জার্ভিস তাঁর মা অ্যান রিভস জার্ভিস–এর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১৯০৮ সালে প্রথম মা দিবস উদ্‌যাপন করেন। অ্যানা জার্ভিস চেয়েছিলেন, এমন একটি দিন থাকুক যখন সব সন্তান তাদের মায়েদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাবে। তাঁর নিরলস প্রচেষ্টার ফলে ১৯১৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারকে জাতীয় মা দিবস হিসেবে ঘোষণা দেন। পরে এটি আন্তর্জাতিকভাবে পালিত হতে শুরু করে।

 

বিশ্ব মা দিবসে আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে পারিবারিক পরিসর পর্যন্ত মায়েদের ঘিরে আবেগঘন ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ দেখা যাচ্ছে। কেউ নিজের মাকে নিয়ে লিখছেন কবিতা, কেউ ছবি পোস্ট করে জানাচ্ছেন কৃতজ্ঞতা। আবার অনেকেই মায়ের হাতে তুলে দিচ্ছেন ছোটখাটো উপহার, কার্ড কিংবা একটি আন্তরিক চিঠি। যদিও মায়ের ভালোবাসার জন্য প্রতিদানে কিছুই যথেষ্ট নয়, তবুও এই দিনে সন্তানরা চেষ্টা করে মায়ের প্রতি তাদের অনুভূতি প্রকাশ করতে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, মা দিবস কেবল একটি আনুষ্ঠানিক দিন নয়, বরং এটি মায়েদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক উপলক্ষ। তারা বলেন, একটি শিশুর নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও মানবিক গুণাবলি গঠনে মায়ের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি। তাই মায়েদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন শুধু একটি দিনের নয়, বরং প্রতিদিনের অভ্যাস হওয়া উচিত।

 

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণেও মায়ের মর্যাদা সর্বোচ্চ। ইসলাম ধর্মে বলা হয়েছে, “জান্নাত মায়ের পায়ের নিচে।” হিন্দু ধর্মেও মাতৃরূপে দেবীর উপাসনা করা হয়। সকল ধর্ম ও সংস্কৃতির মাঝেই মাকে সর্বোচ্চ সম্মান দেওয়া হয়েছে।

 

তবে এই দিনে এক দিক থেকে সচেতন হওয়ারও সময় এসেছে—আমাদের সমাজে এখনও অনেক মা রয়েছেন, যারা অবহেলিত, নির্যাতিত বা উপেক্ষিত। বৃদ্ধাশ্রমে বসবাসকারী মা, অর্থনৈতিক কষ্টে জর্জরিত একক মা কিংবা পেশাগত জীবনে লড়াই করা মা—তাঁদের দুঃখ ও সংগ্রামের কথাও মনে রাখা উচিত। মা দিবস শুধু আনন্দের দিন নয়, বরং এটি এক ধরনের দায়িত্বও—মায়েদের সম্মান ও অধিকার নিশ্চিত করার।

 

আজকের দিনে আমাদের উচিত প্রতিজ্ঞা করা, প্রতিটি মা যেন পান তাঁর প্রাপ্য ভালোবাসা, সম্মান ও নিরাপত্তা। কারণ একজন মা তাঁর সন্তান ও পরিবারের জন্য যে আত্মত্যাগ করেন, তার তুলনা হয় না।

Share this news as a Photo Card