সাম্প্রতিক সময়ের আলোচিত একটি সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। কক্সবাজার বিমানবন্দরকে ‘আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’ ঘোষণার যে সিদ্ধান্ত সম্প্রতি নেওয়া হয়েছিল, তা আপাতত স্থগিতের পথে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই বিষয়ে সরকার নতুন করে পর্যালোচনা শুরু করেছে।
গত ১২ অক্টোবর কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মর্যাদা দেওয়ার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর মাধ্যমে বলা হয়, দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে পর্যটনকেন্দ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বিমানবাংলা এয়ারলাইন্স কলকাতা–কক্সবাজার রুটে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর প্রস্তুতিও নেয়।
তবে এখন সরকারের অভ্যন্তরে সেই ঘোষণা নিয়ে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, অবকাঠামোগত ঘাটতি, নিরাপত্তা মান এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবের কারণে এই সিদ্ধান্ত আপাতত কার্যকর করা সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বিমানবন্দরের রানওয়ে, কাস্টমস, ইমিগ্রেশন, এবং এয়ার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার আরও উন্নয়ন প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
সূত্রের দাবি, সরকারি পর্যায়ে আলোচনা চলছে—আন্তর্জাতিক মর্যাদা বহাল রাখলেও, কার্যক্রম শুরু না হওয়া পর্যন্ত ‘আংশিক আন্তর্জাতিক’ হিসেবে রাখা হতে পারে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে। তবে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি।
স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ী ও নাগরিক মহলে এ সিদ্ধান্তে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, দীর্ঘদিনের স্বপ্নভঙ্গ হলো, আবার কেউ কেউ মনে করছেন সিদ্ধান্তটি বাস্তবসম্মত, কারণ এখনো কক্সবাজারের বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সেবাদানে পুরোপুরি প্রস্তুত নয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর স্থগিতের এই সিদ্ধান্ত দেশের পর্যটন শিল্পে সাময়িক প্রভাব ফেলতে পারে, তবে নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন ছাড়া আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করলে তা ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংকট ডেকে আনতে পারে।
স্টাফ রিপোর্টার 






















