০৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউজিসির খসড়া অধ্যাদেশ বাতিল: ইডেনের দাবী

 

ইউজিসির প্রস্তাবিত নতুন খসড়া অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিতে প্রতিবাদ জানিয়েছে ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা মনে করছেন, প্রস্তাবিত এই অধ্যাদেশ কার্যকর হলে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা আশঙ্কা করছেন, নতুন বিধান অনুযায়ী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপর অযথা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে, যা একাডেমিক পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করবে।

 

শিক্ষার্থীরা জানান, ইউজিসি যে খসড়া অধ্যাদেশ প্রকাশ করেছে তা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মুক্ত চিন্তা ও গবেষণার ক্ষেত্রকে সীমাবদ্ধ করবে। তাদের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে তাদের নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালনার সুযোগ দিতে হবে। কিন্তু এই খসড়া আইন কার্যকর হলে তা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতা কেড়ে নেবে।

 

প্রতিবাদী শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের অধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও স্বাভাবিক ক্যাম্পাস পরিবেশ রক্ষার জন্য অবিলম্বে এই খসড়া অধ্যাদেশ প্রত্যাহার করতে হবে। তারা জানান, শিক্ষা ও গবেষণার মান উন্নয়নের নামে যদি প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়, তাহলে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সমগ্র উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায়।

 

ইডেন কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন এবং মিছিলের মাধ্যমে তাদের দাবি জানান। তারা বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়ন করতে হলে অবকাঠামো, গবেষণা তহবিল বৃদ্ধি ও আধুনিক পাঠ্যক্রম প্রণয়নের দিকে নজর দেওয়া উচিত। অথচ, প্রশাসনিক কর্তৃত্ব বৃদ্ধি করে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।

 

শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রস্তাবিত অধ্যাদেশে যেসব ধারা যুক্ত হয়েছে, তার মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ, সিনেট ও সিন্ডিকেট কার্যক্রমসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার প্রায় সবক্ষেত্রে ইউজিসির প্রভাব বিস্তার ঘটবে। এটি দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত করবে।

 

তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকার ও ইউজিসি যদি দ্রুত এই খসড়া অধ্যাদেশ বাতিল না করে, তাহলে তারা আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।

 

উল্লেখ্য, ইউজিসি সম্প্রতি একটি খসড়া অধ্যাদেশ প্রকাশ করেছে যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও ইতিমধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

হালুয়াঘাটে খরস্রোতা পাহাড়ী নদী ভাঙ্গন রক্ষার দাবিতে মতবিনিময় সভা

সংবাদটা যেনো বস্তুনিষ্ট, সত্য ও নিরপেক্ষ হয়: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী 

28 July 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

ইউজিসির খসড়া অধ্যাদেশ বাতিল: ইডেনের দাবী

পোষ্টের সময় : ০৬:০০:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

 

ইউজিসির প্রস্তাবিত নতুন খসড়া অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিতে প্রতিবাদ জানিয়েছে ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা মনে করছেন, প্রস্তাবিত এই অধ্যাদেশ কার্যকর হলে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা আশঙ্কা করছেন, নতুন বিধান অনুযায়ী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপর অযথা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে, যা একাডেমিক পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করবে।

 

শিক্ষার্থীরা জানান, ইউজিসি যে খসড়া অধ্যাদেশ প্রকাশ করেছে তা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মুক্ত চিন্তা ও গবেষণার ক্ষেত্রকে সীমাবদ্ধ করবে। তাদের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে তাদের নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালনার সুযোগ দিতে হবে। কিন্তু এই খসড়া আইন কার্যকর হলে তা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতা কেড়ে নেবে।

 

প্রতিবাদী শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের অধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও স্বাভাবিক ক্যাম্পাস পরিবেশ রক্ষার জন্য অবিলম্বে এই খসড়া অধ্যাদেশ প্রত্যাহার করতে হবে। তারা জানান, শিক্ষা ও গবেষণার মান উন্নয়নের নামে যদি প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়, তাহলে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সমগ্র উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায়।

 

ইডেন কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন এবং মিছিলের মাধ্যমে তাদের দাবি জানান। তারা বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়ন করতে হলে অবকাঠামো, গবেষণা তহবিল বৃদ্ধি ও আধুনিক পাঠ্যক্রম প্রণয়নের দিকে নজর দেওয়া উচিত। অথচ, প্রশাসনিক কর্তৃত্ব বৃদ্ধি করে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।

 

শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রস্তাবিত অধ্যাদেশে যেসব ধারা যুক্ত হয়েছে, তার মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ, সিনেট ও সিন্ডিকেট কার্যক্রমসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার প্রায় সবক্ষেত্রে ইউজিসির প্রভাব বিস্তার ঘটবে। এটি দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত করবে।

 

তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকার ও ইউজিসি যদি দ্রুত এই খসড়া অধ্যাদেশ বাতিল না করে, তাহলে তারা আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।

 

উল্লেখ্য, ইউজিসি সম্প্রতি একটি খসড়া অধ্যাদেশ প্রকাশ করেছে যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও ইতিমধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

 

Share this news as a Photo Card