মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার হাটিপাড়া ইউনিয়নের চৌকিঘাটা এলাকায় ইছামতী নদীতে স্থানীয়দের পেতে রাখা ফাঁদে ধরা পড়েছে এক বিশালাকৃতির কুমির। শুক্রবার (৮ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে প্রায় ১০ ফুট লম্বা কুমিরটি আটকা পড়ে। দীর্ঘ এক মাস ধরে এই কুমিরকে ঘিরে নদী তীরবর্তী গ্রামগুলোতে আতঙ্ক বিরাজ করছিল।
শনিবার সকালে বন বিভাগ ঘটনাস্থল থেকে কুমিরটি উদ্ধার করে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে গাজীপুর সাফারি পার্কে অবমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় এক মাস ধরে কুমিরটি নদীতে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। এতে গ্রামের মানুষজন মাছ ধরা, গোসল ও নৌকা চালানো বন্ধ করে দেয়। অনেকে হাঁস- মুরগির ক্ষতি হওয়ার অভিযোগও করেছেন।
চরবংখুড়ি গ্রামের রফিক বলেন, “নদীতে নামতে ভয় পেতাম। সবাই বলত বড় কুমির দেখা গেছে। এখন ধরা পড়েছে ঠিকই, কিন্তু ভয় এখনও যায়নি।”
হরিরামপুরের আইলকণ্ডি গ্রামের গৃহবধূ রহিমা খাতুন জানান, “আমার ছয়টা হাঁস কুমিরটার পেটে গেছে। আরও অনেকের হাঁস খেয়েছে।”
কুমির ধরা পড়ার পর শনিবার সকাল থেকেই এলাকাজুড়ে উৎসুক জনতার ভিড় পড়ে যায়। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন — কেউবা সেলফি তোলার প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত।
কুমির ধরায় অংশ নেওয়া যুবক রাহাত, অন্তর, রাকিব, আল আমিন, সুরুজ ও শাহীন জানান, তারা কয়েকদিন ধরে কুমিরটির অবস্থান নজর রাখছিলেন। শুক্রবার রাতে পানির উপর ভেসে উঠলে দড়ির ফাঁদ পেতে দুই দফায় চেষ্টা করে অবশেষে কুমিরটি আটক করতে সক্ষম হন।
হরিরামপুর উপজেলা বন কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, “নদীর বিভিন্ন এলাকায় কুমিরটি ঘুরে বেড়াত। স্থানীয়দের সহযোগিতায় এটি আটক করা হয়েছে।”
ঢাকা বন বিভাগের বন্যপ্রাণী কর্মকর্তা রথীন্দ্রনাথ বিশ্বাস জানান, “কুমিরটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা শেষে গাজীপুর সাফারি পার্কে অবমুক্ত করা হবে।”
স্টাফ রিপোর্টার 




















