বাগেরহাটের পশুর নদীতে সুন্দরবনের রাস পূর্ণিমা পূজা ও পুণ্যস্নান উৎসব শেষে ৪২ জন পূণ্যার্থী বিপদের মুখোমুখি হন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে হারবারিয়া ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন এলাকায় ইঞ্জিনচালিত ট্রলারের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ট্রলার দুটি নদীতে ভেসে যায়। মুহূর্তেই যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।
ঘটনার খবর পেয়ে কোস্টগার্ড মোংলা পশ্চিম জোন রাতেই উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দ্রুত গতিতে অভিযান চালিয়ে হারবারিয়া এলাকা থেকে ভাসমান ৪২ জন পূণ্যার্থীদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের মোংলা উপজেলার জয়মনিরঘোল ঠোডা জেটিতে পৌঁছে দেওয়া হয়। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে কেউই গুরুতর আহত হননি।
কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক জানান, সকাল ৯টায় সুন্দরবনের দুবলারচরে অনুষ্ঠিত উৎসব শেষে পূণ্যার্থীরা দুটি ট্রলারে করে ফেরার পথে ছিলেন। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ট্রলার দুটি নদীতে ভেসে যায় এবং তারা নিখুঁত উদ্ধার অভিযান না হলে বিপদের মধ্যে পড়তে পারতেন। যাত্রীদের মধ্যে সবাই খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার বাসিন্দা।
উৎসব চলাকালীন সময়ে সুন্দরবন যেন এক জীবন্ত উৎসবমঞ্চে পরিণত হয়েছিল। তবে ফেরার পথে এমন দুর্ঘটনা সংগঠিত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও উদ্বেগের ছাপ পড়ে। বিশ্লেষকরা বলছেন, নদী পথে ভ্রমণের সময় নৌকানিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। পর্যটক ও স্থানীয়দের নিরাপদ পরিবেশে ফেরার জন্য প্রস্তুতি থাকা উচিত।
সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত সুন্দরবনে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। কোস্টগার্ডের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে কেউ হতাহত হয়নি, যা এলাকার জন্য একটি সান্ত্বনার খবর। এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীও সতর্ক হয়ে পড়েছেন। নদীতে যাত্রী পরিবহণের ক্ষেত্রে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্টাফ রিপোর্টার 




















