নার্সদের সেবাকে নিছক পেশাগত দায়িত্ব নয়, বরং মানবসেবার সর্বোচ্চ কর্তব্য হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, রোগীর কাছে সবচেয়ে প্রথম যে মুখটি ভরসা জোগায়, তা নার্সের মুখ—তাদের আচরণ, নৈতিকতা এবং যত্নই মূলত স্বাস্থ্যসেবার মান গড়ে দেয়।
আজ শুক্রবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত জাতীয় নার্সেস সম্মেলনে তিনি এই আহ্বান জানান। মিন্টু রোডের শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন হলে ন্যাশনাল নার্সেস ফোরাম (এনএনএফ) আয়োজন করে দিনব্যাপী এই সম্মেলন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক ডা. মো. ইউনুছ আলী।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নার্সিং এমন একটি পেশা যেখানে রোগীর প্রথম থেকে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত পাশে থাকে নার্স। তাই প্রতিটি কাজে মানবিকতা, সহানুভূতি এবং নৈতিকতা থাকা অপরিহার্য। তাঁর ভাষায়, “নিজেদের কাজটাকে ইবাদত হিসেবে নিন। একজন নার্সের একটি হাসি রোগীর অর্ধেক কষ্ট কমিয়ে দেয়—এটিই নার্সিংয়ের শক্তি।”
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার মান উন্নয়নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নার্সদেরই। আইন বা বিধি দিয়ে সবকিছু বদলানো যায় না—নৈতিকতা পরিবর্তন না হলে সমাজ বদলায় না। তিনি উল্লেখ করেন, ১৮ কোটি মানুষের মাঝে নৈতিক শক্তি বাড়ানোই তাদের লক্ষ্য।
রাজনৈতিক প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ক্ষমতায় গেলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তিনি জানান—সরকারে থাকুক বা বিরোধী দলে, জনগণের স্বার্থে তাদের অবস্থান একটাই থাকবে। ব্রুনাই সুলতানের উদাহরণ তুলে তিনি বলেন, নেতৃত্ব মানে নিজের স্বার্থ নয়, জনগণের কল্যাণকেই সর্বাগ্রে রাখা।
সম্মেলনে বক্তারা নার্সদের দক্ষতা, প্রশিক্ষণ, কর্মপরিবেশ ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। তারা মনে করেন, অবকাঠামো, আধুনিক শিক্ষা, সম্মান ও নিরাপত্তা একসঙ্গে শক্তিশালী করা না গেলে স্বাস্থ্যসেবায় কাঙ্ক্ষিত মানোন্নয়ন সম্ভব নয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এনডিএফ সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, অধ্যাপক ডা. সাজেদ আ. খালেক, ডা. জিএম ফারুক হোসেনসহ নানা পর্যায়ের চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যসেবা সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
স্টাফ রিপোর্টার 






















