০৩:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইলেকট্রিক শক দেওয়ার মেশিন দেখতে চাওয়ায় সাম্যকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৮

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • পোষ্টের সময় : ০৯:৪৯:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ মে ২০২৫
  • ৪১৯ ভিউ :

 

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে খাবার খেতে গিয়ে মাদক কারবারিদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শাহরিয়ার আলম সাম্য। ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী জানান, ‘ট্রেজার গান’ (এক ধরনের ইলেকট্রিক শক দেওয়ার যন্ত্র) ঘিরে শুরু হওয়া বিরোধ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।

 

মঙ্গলবার (২৭ মে) বিকেলে মিন্টো রোডের ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। কমিশনার জানান, মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একাধিক টিম কক্সবাজার, মুন্সীগঞ্জ ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যায় জড়িত আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন: মো. রাব্বি (ওরফে কবুতর রাব্বি), মেহেদী হাসান, নাহিদ হাসান পাপেল, মো. রিপন, মো. সোহাগ, মো. রবিন, হৃদয় ইসলাম এবং সুজন সরকার।

 

ডিবির যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম বলেন, সাম্য ও তার দুই বন্ধু রাতে খাবার খেতে উদ্যানে গেলে রাব্বির কাছে থাকা ‘ট্রেজার গান’ দেখতে চায়। রাব্বি রাজি না হওয়ায় বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে অন্য মাদক কারবারিরাও যোগ দেয় এবং সাম্য ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন। তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

 

তিনি আরও জানান, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদক কারবারিদের তিনটি সক্রিয় দল রয়েছে—একটি তিন নেতার মাজার এলাকায়, একটি উদ্যানের মাঝে, এবং আরেকটি ছবির হাট ঘিরে। এদের মধ্যে মেহেদী হাসান একটি দলের নেতৃত্ব দেয় এবং সে সুইস গিয়ার সরবরাহ করে। হত্যার দিনও সে ব্যাগে করে এসব সরঞ্জাম নিয়ে এসে সহযোগীদের মধ্যে বিতরণ করে।

 

শাহরিয়ার আলম সাম্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং এ এফ রহমান হল ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক ছিলেন। তার বাড়ি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায়।

 

১৩ মে রাতে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় সাম্যের বড় ভাই ১৪ মে শাহবাগ থানায় ১০-১২ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে নিবিড় তদন্তাধীন রয়েছে।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

প্রয়োজনে বিমান টিকিট দেব, তবুও দেশে আসুন: হাসিনাকে তথ্য প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় হিফজ প্রতিযোগিতায় দেশসেরা দুই হাফেজ, নকলায় রাজকীয় সংবর্ধনা

06 November 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

ইলেকট্রিক শক দেওয়ার মেশিন দেখতে চাওয়ায় সাম্যকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৮

পোষ্টের সময় : ০৯:৪৯:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ মে ২০২৫

 

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে খাবার খেতে গিয়ে মাদক কারবারিদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শাহরিয়ার আলম সাম্য। ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী জানান, ‘ট্রেজার গান’ (এক ধরনের ইলেকট্রিক শক দেওয়ার যন্ত্র) ঘিরে শুরু হওয়া বিরোধ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।

 

মঙ্গলবার (২৭ মে) বিকেলে মিন্টো রোডের ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। কমিশনার জানান, মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একাধিক টিম কক্সবাজার, মুন্সীগঞ্জ ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যায় জড়িত আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন: মো. রাব্বি (ওরফে কবুতর রাব্বি), মেহেদী হাসান, নাহিদ হাসান পাপেল, মো. রিপন, মো. সোহাগ, মো. রবিন, হৃদয় ইসলাম এবং সুজন সরকার।

 

ডিবির যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম বলেন, সাম্য ও তার দুই বন্ধু রাতে খাবার খেতে উদ্যানে গেলে রাব্বির কাছে থাকা ‘ট্রেজার গান’ দেখতে চায়। রাব্বি রাজি না হওয়ায় বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে অন্য মাদক কারবারিরাও যোগ দেয় এবং সাম্য ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন। তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

 

তিনি আরও জানান, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদক কারবারিদের তিনটি সক্রিয় দল রয়েছে—একটি তিন নেতার মাজার এলাকায়, একটি উদ্যানের মাঝে, এবং আরেকটি ছবির হাট ঘিরে। এদের মধ্যে মেহেদী হাসান একটি দলের নেতৃত্ব দেয় এবং সে সুইস গিয়ার সরবরাহ করে। হত্যার দিনও সে ব্যাগে করে এসব সরঞ্জাম নিয়ে এসে সহযোগীদের মধ্যে বিতরণ করে।

 

শাহরিয়ার আলম সাম্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং এ এফ রহমান হল ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক ছিলেন। তার বাড়ি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায়।

 

১৩ মে রাতে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় সাম্যের বড় ভাই ১৪ মে শাহবাগ থানায় ১০-১২ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে নিবিড় তদন্তাধীন রয়েছে।

 

Share this news as a Photo Card