ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) নতুন করে রাজনৈতিক দলের জন্য নির্ধারিত প্রতীকগুলোর গেজেট প্রকাশ করেছে। বুধবার প্রকাশিত ওই গেজেটে মোট ১১৫টি প্রতীকের নাম উল্লেখ থাকলেও আলোচিত দুটি প্রতীক নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো শাপলা, অন্যটি নৌকা।
গেজেটে স্পষ্টভাবে দেখা গেছে, তালিকাভুক্ত প্রতীকগুলোর মধ্যে শাপলা নেই। অথচ সম্প্রতি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দাবি তুলেছিল, তাদের জন্য শাপলা প্রতীক বরাদ্দ করা হোক। কিন্তু ইসি জানায়, সংশোধিত নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা অনুযায়ী নির্দিষ্ট প্রতীক ছাড়া অন্য কোনো প্রতীক দলগুলোকে দেওয়া সম্ভব নয়। ফলে শাপলার দাবি গেজেটে প্রতিফলিত হয়নি।
অন্যদিকে সবচেয়ে আলোচিত হয়েছে নৌকা প্রতীক। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতীক হিসেবে পরিচিত নৌকার পাশে এবার গেজেটে স্পষ্টভাবে “স্থগিত” শব্দটি লেখা আছে। অর্থাৎ এই প্রতীক এখনো স্থগিত অবস্থায় আছে বলে ইসির প্রকাশিত গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা-কল্পনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, নিবন্ধন স্থগিত থাকার কারণে নৌকার ব্যবহার নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি।
ইসি জানিয়েছে, গেজেটে প্রকাশিত প্রতীকগুলোই কেবল ব্যবহারযোগ্য হবে। এর বাইরে কোনো প্রতীক চাইলে সেটি গ্রহণযোগ্য হবে না। ফলে রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্ধারিত তালিকা থেকেই প্রতীক বেছে নিতে হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতীক নিয়ে এমন সিদ্ধান্ত আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের মনে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে নৌকার মতো ঐতিহাসিক ও পরিচিত প্রতীকের পাশে স্থগিত লেখা থাকায় সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হতে পারে। অন্যদিকে শাপলা প্রতীক না থাকায় এনসিপির দাবিও ধাক্কা খেয়েছে।
সব মিলিয়ে নির্বাচনকে ঘিরে প্রতীকসংক্রান্ত এই নতুন পরিস্থিতি নির্বাচনী মাঠে বাড়তি উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। আগামী দিনে প্রতীক বরাদ্দ ও ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান ও প্রতিক্রিয়া যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হবে, তা এখনই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
স্টাফ রিপোর্টার 





















