০৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উত্তরবঙ্গ বাস চলাচলে অচল, মালিক-শ্রমিক দ্বন্দ্ব

  • স্টাফ রিপোর্টার
  • পোষ্টের সময় : ১০:৪৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৩৩৪ ভিউ :

 

উত্তরাঞ্চলের পরিবহন শ্রমিকদের নতুন দাবিকে কেন্দ্র করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী ও নাটোর থেকে ঢাকার দূরপাল্লার বাস চলাচল আংশিকভাবে বন্ধ রয়েছে। এর আগে বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি সমাধান হওয়ার পর শ্রমিকরা মালিকপক্ষের কাছে আরও কিছু দাবি উত্থাপন করেন। মালিকপক্ষ এ দাবিকে অন্যায্য বলে দাবি করছে এবং সমাধান না হওয়া পর্যন্ত বাস চালাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে দূরপাল্লার একতা পরিবহন ও স্থানীয় বাস চলাচল সচল রয়েছে।

 

বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বজলুর রহমান রতন বলেন, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবি ইতিমধ্যে সমাধান হয়েছে। মঙ্গলবার ঢাকায় বৈঠকে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এরপর বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে শ্রমিকরা এখন বাস যত্রতত্র থামিয়ে যাত্রী তুলে খোরাকি ও হোটেল ভাতা দাবি করছে। মালিকপক্ষ মনে করছে, এভাবে বাস চালালে ব্যবসা বন্ধ হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।

 

উত্তরবঙ্গ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব নজরুল ইসলাম বলেন, বেতন-ভাতা বাড়ানোর পরও শ্রমিকরা অন্যান্য ভাতার জন্য অতিরিক্ত টাকা দাবি করছেন। এজন্য মালিকপক্ষ বাস বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। তিনি বলেন, এ ধরনের দাবির চাপের কারণে নিরাপদভাবে বাস পরিচালনা করা সম্ভব নয়।

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ট্রাক, ট্যাঙ্কলরি ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সাইদুর রহমান বলেন, ঢাকায় বৈঠক সন্তোষজনকভাবে শেষ হয়েছে এবং ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন বেতন-ভাতা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। মালিকপক্ষ একতরফাভাবে বাস বন্ধ করায় শ্রমিকদের কোনো দোষ নেই। যাত্রী যেখান থেকে উঠতে বা নামতে চাইবেন, কেবল সেখানে বাস থামানো হয়।

 

শ্রমিকদের রাতযাপন ও খাবারের ভাতার বিষয়েও সাইদুর রহমান জানান, নতুন কোনো দাবি তোলা হয়নি। মালিকপক্ষের পক্ষ থেকে যা বলা হচ্ছে, তা প্রকৃত নয়। একতা ট্রান্সপোর্টের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চালক, সুপারভাইজার ও হেলপারের জন্য ২৪ ঘণ্টা অবস্থানের খোরাকি ভাতা প্রদান করা হবে।

 

রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পাখি বলেন, বেতন বৃদ্ধির দাবির পর শ্রমিকরা কাজ শুরু করেছে। তবে মালিকপক্ষ হঠাৎ বাস চালানোর অনিচ্ছা প্রকাশ করেছে, যা অপ্রত্যাশিত ও অযৌক্তিক।

 

এর আগে, বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে গত সোমবার থেকে বাসচালক ও কর্মচারীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ রাখেন। পরদিন মালিক-শ্রমিক বৈঠকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

প্রয়োজনে বিমান টিকিট দেব, তবুও দেশে আসুন: হাসিনাকে তথ্য প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় হিফজ প্রতিযোগিতায় দেশসেরা দুই হাফেজ, নকলায় রাজকীয় সংবর্ধনা

06 November 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

উত্তরবঙ্গ বাস চলাচলে অচল, মালিক-শ্রমিক দ্বন্দ্ব

পোষ্টের সময় : ১০:৪৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

 

উত্তরাঞ্চলের পরিবহন শ্রমিকদের নতুন দাবিকে কেন্দ্র করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী ও নাটোর থেকে ঢাকার দূরপাল্লার বাস চলাচল আংশিকভাবে বন্ধ রয়েছে। এর আগে বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি সমাধান হওয়ার পর শ্রমিকরা মালিকপক্ষের কাছে আরও কিছু দাবি উত্থাপন করেন। মালিকপক্ষ এ দাবিকে অন্যায্য বলে দাবি করছে এবং সমাধান না হওয়া পর্যন্ত বাস চালাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে দূরপাল্লার একতা পরিবহন ও স্থানীয় বাস চলাচল সচল রয়েছে।

 

বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বজলুর রহমান রতন বলেন, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবি ইতিমধ্যে সমাধান হয়েছে। মঙ্গলবার ঢাকায় বৈঠকে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এরপর বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে শ্রমিকরা এখন বাস যত্রতত্র থামিয়ে যাত্রী তুলে খোরাকি ও হোটেল ভাতা দাবি করছে। মালিকপক্ষ মনে করছে, এভাবে বাস চালালে ব্যবসা বন্ধ হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।

 

উত্তরবঙ্গ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব নজরুল ইসলাম বলেন, বেতন-ভাতা বাড়ানোর পরও শ্রমিকরা অন্যান্য ভাতার জন্য অতিরিক্ত টাকা দাবি করছেন। এজন্য মালিকপক্ষ বাস বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। তিনি বলেন, এ ধরনের দাবির চাপের কারণে নিরাপদভাবে বাস পরিচালনা করা সম্ভব নয়।

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ট্রাক, ট্যাঙ্কলরি ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সাইদুর রহমান বলেন, ঢাকায় বৈঠক সন্তোষজনকভাবে শেষ হয়েছে এবং ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন বেতন-ভাতা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। মালিকপক্ষ একতরফাভাবে বাস বন্ধ করায় শ্রমিকদের কোনো দোষ নেই। যাত্রী যেখান থেকে উঠতে বা নামতে চাইবেন, কেবল সেখানে বাস থামানো হয়।

 

শ্রমিকদের রাতযাপন ও খাবারের ভাতার বিষয়েও সাইদুর রহমান জানান, নতুন কোনো দাবি তোলা হয়নি। মালিকপক্ষের পক্ষ থেকে যা বলা হচ্ছে, তা প্রকৃত নয়। একতা ট্রান্সপোর্টের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চালক, সুপারভাইজার ও হেলপারের জন্য ২৪ ঘণ্টা অবস্থানের খোরাকি ভাতা প্রদান করা হবে।

 

রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পাখি বলেন, বেতন বৃদ্ধির দাবির পর শ্রমিকরা কাজ শুরু করেছে। তবে মালিকপক্ষ হঠাৎ বাস চালানোর অনিচ্ছা প্রকাশ করেছে, যা অপ্রত্যাশিত ও অযৌক্তিক।

 

এর আগে, বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে গত সোমবার থেকে বাসচালক ও কর্মচারীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ রাখেন। পরদিন মালিক-শ্রমিক বৈঠকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

 

Share this news as a Photo Card