দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আবারও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মরণব্যাধি এ রোগে নতুন করে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ৫৬৫ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো দৈনিক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, একদিনে সারা দেশে হাসপাতালে আসা রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঢাকাতেই ভর্তি হয়েছে। রাজধানীর দুই সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মিলিয়ে ভর্তি হয়েছে ২১৫ জন—এর মধ্যে ঢাকা উত্তরে ১২৭ এবং দক্ষিণ সিটিতে ৮৮ জন। ঢাকা বিভাগে সিটি কর্পোরেশন এলাকার বাইরে আরও ৯৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
ঢাকার বাইরে বিভাগীয় পরিস্থিতিও উল্লেখযোগ্য। বরিশালে ৫১ জন, চট্টগ্রামে ৮২ জন, খুলনায় (সিটি এলাকার বাইরে) ৪৩ জন, ময়মনসিংহে ৪৫ জন, রাজশাহীতে ৩০ জন, রংপুরে ৩ জন এবং সিলেটে ১ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
অন্যদিকে, একই সময়ে সারা দেশে মোট ৫৭৮ জন রোগী চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। চলতি বছর এখন পর্যন্ত মোট ৯৩ হাজার ১৯৬ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
এ বছরের জানুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৫ হাজার ৫৭৭ জনে। আর বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ৩৮৬ জনের মৃত্যু হয়েছে—যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে মোট ১,০১,২১৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন এবং মৃত্যু হয়েছিল ৫৭৫ জনের। তার আগের বছর ২০২৩ সালে ডেঙ্গুর ভয়াবহ রূপে ১,৭০৫ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয় এবং আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিন লাখেরও বেশি মানুষ।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডেঙ্গুর বিস্তার কমাতে নগর পরিচ্ছন্নতা, লার্ভা ধ্বংস এবং সচেতনতার বিকল্প নেই।
স্টাফ রিপোর্টার 






















