সিলেট অঞ্চলে মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে পরপর দুটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) গভীর রাতে ঘটে যাওয়া এই কম্পন দুইটি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূমিকম্প কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ভূমিকম্পটি রেকর্ড হয় রাত ২টা ৫০ মিনিট ৩১ সেকেন্ডে এবং দ্বিতীয়টি অনুভূত হয় ২টা ৫৫ মিনিট ১৪ সেকেন্ডে।
প্রথম ভূমিকম্পটির রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৫। এর উৎপত্তিস্থল ছিল সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলা, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায়। কেন্দ্রের অবস্থান পাওয়া গেছে ২৪.৮৩০ এবং ৯২.১৮০ কো-অর্ডিনেটে, আর এর গভীরতা ছিল ২০ কিলোমিটার। পরবর্তী কম্পনটির মাত্রা সামান্য কম—৩ দশমিক ৩। এর কেন্দ্র স্থির ছিল ২৪.৭৯০; ৯২.২১০ অবস্থানে, আর গভীরতা ছিল প্রায় ৩০ কিলোমিটার। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুটি ভূমিকম্পই খুব বেশি শক্তিশালী না হলেও কম্পন স্পষ্টভাবে টের পাওয়া গেছে।
এদিকে প্রায় একই সময়, বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী বুধবার রাত ২টা ৫৪ মিনিট ৩ সেকেন্ডে মিয়ানমারে আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৭। মিয়ানমারের উত্তর মান্দালয় এলাকার প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে ভূমিকম্পটির উৎপত্তি ঘটে। কেন্দ্রের অবস্থান ছিল ২২.১১০; ৯৬.১৩১, এবং গভীরতা ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে সিলেট-সংলগ্ন অঞ্চল এবং সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে ছোট মাত্রার ভূমিকম্প বেড়েছে, যা ভূ-প্রাকৃতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হতে পারে। যদিও এই ধরনের কম মাত্রার কম্পনে বড় ধরনের ক্ষতির ঝুঁকি কম, তবুও ধারাবাহিক ভূমিকম্প ভবিষ্যতের বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাসও হতে পারে বলে সতর্ক করছেন তারা।
সিলেটের সাধারণ মানুষের মধ্যেও রাতের এই কম্পন নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। অনেকে রাতের ঘুম ভেঙে আতঙ্কিত হয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘটনার বিবরণ শেয়ার করেছেন।
সোমবারের এই তিনটি ভূমিকম্পের ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল—বাংলাদেশ এখনো ভূমিকম্প ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের তালিকায় রয়েছে এবং এ বিষয়ে সতর্ক থাকা ছাড়া বিকল্প নেই।
স্টাফ রিপোর্টার 





















