নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার অর্জুনতলা ইউনিয়নের নাজিরনগর গ্রামের আব্দুল আউয়াল খান (ডালিম) ছিলেন এক স্বপ্নবাজ যুবক। নয় বছর প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরে তিনি আত্মনির্ভর হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন। কিন্তু মাত্র এক রাতেই তাঁর সেই স্বপ্ন ধুলিসাৎ হয়ে গেছে।
ডালিম নিজ বাড়ির পাশে প্রায় ১৩ শতাংশ জমিতে ঘের তৈরি করে তাতে প্রায় সাত হাজার তেলাপিয়া মাছ ছেড়েছিলেন। নিয়মিত যত্ন ও সঠিক খাদ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মাছগুলো ভালোভাবেই বেড়ে উঠছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতের কোনো এক সময় কে বা কারা ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে। ফলে শুক্রবার সকালে পুরো ঘেরজুড়ে ভেসে ওঠে মৃত মাছ।
তিনি জানান, “বৃহস্পতিবার রাতে সব ঠিকঠাক ছিল। রাতে অক্সিজেন দিয়েছিলাম। সকালে দেখি, একসঙ্গে সব মাছ মারা গেছে। প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়ে গেছে আমার।” তিনি আরও বলেন, “কাউকে শত্রু ভাবার মতো কিছু নেই, কেউ কেন এমন করবে বুঝতে পারছি না।”
স্থানীয়রা জানান, এ ঘটনায় শুধু ডালিমই নয়, পুরো এলাকাই হতবাক। এমন অন্যায় কাজের প্রতিবাদে তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তাঁদের মতে, এ ধরনের নাশকতা এলাকায় চাষাবাদে মানুষকে নিরুৎসাহিত করবে।
ঘটনা জানার পর সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিরীন আক্তার বলেন, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরে এসেছে। “উদ্যোক্তাকে থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে বলা হয়েছে। আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেব,” বলেন তিনি।
এদিকে, স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, এটি পরিকল্পিতভাবে বিষপ্রয়োগের ঘটনা হতে পারে। তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত চাষিকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
এক রাতের ঘটনায় স্বপ্নভঙ্গ ডালিম এখন দিশেহারা। প্রবাস থেকে ফিরে যিনি উদ্যোগী তরুণ হিসেবে উদাহরণ হতে পারতেন, তিনি আজ এক গভীর হতাশার মুখোমুখি।
স্টাফ রিপোর্টার 




















