১১:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঐতিহাসিক জুলাই সনদে স্বাক্ষর, কিছু দলের আপত্তি রইল

অবশেষে রাষ্ট্রসংস্কারের অঙ্গীকারে ঐতিহাসিক ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষরিত হলো। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই সনদে স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়।

 

রাষ্ট্রসংস্কার প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া ২৫টি রাজনৈতিক দল, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুস এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্যরা এতে অংশ নেন। অধ্যাপক ইউনুস বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলো অসম্ভবকে সম্ভব করেছে; এটি বিশ্বের জন্য এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।”

 

তবে সবাই এই সনদে স্বাক্ষর করেননি। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আলোচনায় উপস্থিত থাকলেও তারা সনদে সই করতে অস্বীকৃতি জানায়। তাদের দাবি, সনদের কোনো ‘আইনি ভিত্তি নেই’। এছাড়া বাংলাদেশের চারটি বামপন্থী দল — বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাসদ (মার্কসবাদী) এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) — সনদের ঐতিহাসিক উপস্থাপনা ও সাংবিধানিক অবস্থান নিয়ে আপত্তি জানিয়ে সই না করার সিদ্ধান্ত নেয়।

 

এতদিন ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংলাপ, আলোচনা ও পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে তৈরি হয় এই ‘জুলাই সনদ’। রাষ্ট্রসংস্কার, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা, জবাবদিহি ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্নে এই সনদকে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে কিছু দলের আপত্তি ইঙ্গিত করছে, বাস্তবায়নের পথে এখনো চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতারা বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে রাষ্ট্রের মৌলিক পরিবর্তন দরকার, আর এই সনদ সেই পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে। অন্যদিকে বিরোধী অবস্থানে থাকা দলগুলো মনে করে, সনদটি বাস্তবসম্মত নয় এবং এর মাধ্যমে প্রকৃত সংস্কার সম্ভব হবে না।

 

উল্লেখ্য, ‘জুলাই সনদ’-এর সম্পূর্ণ পাঠ ও আপত্তিকর নোট (Note of Dissent) প্রকাশ করা হয়েছে অনলাইনে, যাতে নাগরিকরা পূর্ণাঙ্গভাবে এর বিষয়বস্তু জানতে পারেন।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

জাতীয় হিফজ প্রতিযোগিতায় দেশসেরা দুই হাফেজ, নকলায় রাজকীয় সংবর্ধনা

হালুয়াঘাটে ইয়াবাসহ আটক ২

04 November 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

ঐতিহাসিক জুলাই সনদে স্বাক্ষর, কিছু দলের আপত্তি রইল

পোষ্টের সময় : ০১:৫৮:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫

অবশেষে রাষ্ট্রসংস্কারের অঙ্গীকারে ঐতিহাসিক ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষরিত হলো। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই সনদে স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়।

 

রাষ্ট্রসংস্কার প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া ২৫টি রাজনৈতিক দল, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুস এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্যরা এতে অংশ নেন। অধ্যাপক ইউনুস বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলো অসম্ভবকে সম্ভব করেছে; এটি বিশ্বের জন্য এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।”

 

তবে সবাই এই সনদে স্বাক্ষর করেননি। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আলোচনায় উপস্থিত থাকলেও তারা সনদে সই করতে অস্বীকৃতি জানায়। তাদের দাবি, সনদের কোনো ‘আইনি ভিত্তি নেই’। এছাড়া বাংলাদেশের চারটি বামপন্থী দল — বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাসদ (মার্কসবাদী) এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) — সনদের ঐতিহাসিক উপস্থাপনা ও সাংবিধানিক অবস্থান নিয়ে আপত্তি জানিয়ে সই না করার সিদ্ধান্ত নেয়।

 

এতদিন ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংলাপ, আলোচনা ও পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে তৈরি হয় এই ‘জুলাই সনদ’। রাষ্ট্রসংস্কার, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা, জবাবদিহি ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্নে এই সনদকে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে কিছু দলের আপত্তি ইঙ্গিত করছে, বাস্তবায়নের পথে এখনো চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতারা বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে রাষ্ট্রের মৌলিক পরিবর্তন দরকার, আর এই সনদ সেই পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে। অন্যদিকে বিরোধী অবস্থানে থাকা দলগুলো মনে করে, সনদটি বাস্তবসম্মত নয় এবং এর মাধ্যমে প্রকৃত সংস্কার সম্ভব হবে না।

 

উল্লেখ্য, ‘জুলাই সনদ’-এর সম্পূর্ণ পাঠ ও আপত্তিকর নোট (Note of Dissent) প্রকাশ করা হয়েছে অনলাইনে, যাতে নাগরিকরা পূর্ণাঙ্গভাবে এর বিষয়বস্তু জানতে পারেন।

Share this news as a Photo Card