কক্সবাজারে অবৈধভাবে ভাড়া বাসায় বসবাসরত ১৩ রোহিঙ্গা নাগরিক এবং তাদের আশ্রয়দাতা দুই বাংলাদেশিকে আটক করেছে র্যাব সদস্যরা। সোমবার গভীর রাতে টেকনাফ পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের কে কে পাড়া এলাকার “আব্দুল্লাহ ম্যানশন” নামের একটি ভবনে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে ওই ভবনে অভিযান চালানো হয়। দীর্ঘদিন ধরে কিছু রোহিঙ্গা ব্যক্তি ভুয়া পরিচয়ে ভাড়া বাসায় থাকছিলেন বলে তথ্য পাওয়া যায়। এসময় বাড়ির মালিক ও কেয়ারটেকারসহ মোট ১৫ জনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাদের টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।
র্যাব-১৫ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, আটক রোহিঙ্গারা বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে পালিয়ে এসে ওই এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। তারা কেউ কেউ স্থানীয় শ্রমবাজারে কাজ করছিলেন, আবার কেউ পরিচয় গোপন করে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়।
তিনি আরও জানান, রোহিঙ্গারা ক্যাম্পের বাইরে বসবাস করলে তা দেশের আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই তাদের আশ্রয়দাতা বাড়ির মালিকদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আটককৃতদের বিরুদ্ধে বিদেশি নাগরিক আইন ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয়দের মতে, অনেক রোহিঙ্গা দীর্ঘদিন ধরে টেকনাফ ও উখিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। তারা ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে বাসা ভাড়া নিচ্ছে, আবার কেউ কেউ স্থানীয়দের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
র্যাবের এই অভিযানের পর এলাকাজুড়ে আলোচনার ঝড় উঠেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্যাম্পের বাইরে কোনো রোহিঙ্গা পাওয়া গেলে তাদের দ্রুত ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হবে এবং আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনায় রোহিঙ্গা ইস্যু আবারও আলোচনায় এসেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ক্যাম্পে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকায় অনেক রোহিঙ্গা ক্যাম্প ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। অন্যদিকে, স্থানীয়রা বলছেন, তাদের উপস্থিতি সমাজে নানা ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে।
স্টাফ রিপোর্টার 






















