চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত দেশের প্রথম সাবমেরিন টানেল ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল’-এ শুরু হয়েছে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম। এই কাজের কারণে আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত টানেলে যান চলাচল আংশিকভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
রক্ষণাবেক্ষণের সময় টানেলের ভেতর ও দুই প্রান্তে যানবাহনের গতি সীমিত করা হবে এবং প্রয়োজনে কয়েক মিনিটের জন্য যান চলাচল বন্ধও থাকতে পারে। যাত্রী ও চালকদের কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে—গড়ে ৫ থেকে ১০ মিনিট পর্যন্ত, যা ট্রাফিকের চাপ অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, টানেলের নিরাপত্তা এবং কার্যক্ষমতা নিশ্চিত করতে এই রুটিন মেইনটেন্যান্স কাজ করা হচ্ছে। আলো, ভেন্টিলেশন, জরুরি সিগন্যালিং এবং পানিনিষ্কাশন ব্যবস্থার কার্যকারিতা পরীক্ষা করার পাশাপাশি, বিভিন্ন যান্ত্রিক অংশও সার্বিকভাবে পরিদর্শন করা হবে। এই সময়ে “পতেঙ্গা থেকে আনোয়ারা” ও “আনোয়ারা থেকে পতেঙ্গা”—উভয় দিকের গাড়ি নিয়ন্ত্রিতভাবে চলবে।
জনসাধারণকে অনুরোধ জানানো হয়েছে যেন তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টানেল ব্যবহার না করে বিকল্প পথ বিবেচনা করেন। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই অল্প সময়ের সীমিত চলাচল ভবিষ্যতে নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন সড়ক সংযোগ বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
চট্টগ্রামবাসীকে সাময়িক এই অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে প্রকল্প ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাতের সময়েই রক্ষণাবেক্ষণ কাজ করা হচ্ছে যাতে দিনের বেলা সাধারণ মানুষ ও পণ্য পরিবহনের ওপর প্রভাব না পড়ে। কাজ শেষে টানেলের পুরো কার্যক্রম আরও আধুনিক ও নিরাপদ হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, কর্ণফুলী নদীর নিচ দিয়ে নির্মিত এই টানেলটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অনন্য মাইলফলক। এর মাধ্যমে চট্টগ্রাম শহর ও দক্ষিণাঞ্চলের সংযোগ আরও মজবুত হয়েছে। টানেলটি চালু হওয়ার পর থেকে প্রতিদিন হাজারো যানবাহন এতে চলাচল করছে, যা এখন দক্ষিণ চট্টগ্রামের অর্থনীতিতে প্রাণচাঞ্চল্য এনেছে।
স্টাফ রিপোর্টার 






















