১১:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কিশোরগঞ্জে কলেজছাত্র হত্যায় নারীসহ তিনজনের মৃত্যুদন্ড

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে কলেজছাত্র হত্যা মামলায় দুই নারীসহ তিনজনকে মৃত্যুদন্ডাদেশ দিয়েছে কিশোরগঞ্জের তৃতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত। এছাড়াও প্রত্যেক আসামিকে ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ডে দন্ডিত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ মে) দুপুরে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-৩ বিচারক ফাতেমা আক্তার স্বর্ণা এই রায় আদেশ দেন। প্রদত্ত সাজা ফাঁসির মাধ্যমে কার্যকর করার নির্দেশ দেন বিচারক। রায় ঘোষণার সময় মৃত্যুদন্ডের সাজাপ্রাপ্ত তিন আসামির মধ্যে দুইজন পলাতক ছিলেন।

 

মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দৌলতদিয়া গ্রামের মো. কাইয়ুম সরকারের স্ত্রী সেলিনা বেগম ওরফে শিউলী (২৫), একই জেলার আশুগঞ্জ উপজেলার সোনারামপুর গ্রামের আব্দুল খালেকের মেয়ে শোভা প্রকাশ মেঘলা (২০) এবং কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার ভৈরবপুর উত্তরপাড়ার মৃত সাহিল উদ্দিনের ছেলে মো. সুমন (২২)। সাজাপ্রাপ্ত আসামি শোভা প্রকাশ মেঘলা ও সুমন পলাতক রয়েছেন।

 

মামলা বিবরণে জানা যায়, কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার তারাকান্দি মধ্যপাড়ার মো. সামছুদ্দিন মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ আলী (২২)। ২০০৮ সালে মোহাম্মদ আলী ভৈরব হাজী হাসমত কলেজে বি.এস.সি প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিল। ২০০৮ সালের ৬ জানুয়ারি রাত ৯টার দিকে মোহাম্মদ আলী ও তার বন্ধু মুরাদকে ভৈরব হাজী হাসমত কলেজ গেটের ভেতরে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে দুষ্কৃতিকারীরা দুইজনকে এলোপাথাড়িভাবে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে। এ সময় অন্য ছাত্ররা তাদের উদ্ধার করে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোহাম্মদ আলীকে মৃত ঘোষণা করেন। আর গুরুতর আহত মুরাদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।

এ ঘটনায় নিহত মোহাম্মদ আলীর বাবা সামছুদ্দিন মিয়া ২০০৮ সালের ৭ জানুয়ারি ভৈরব থানায় মামলা দায়ের করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন এপিপি শফিউল জামান ভূঁইয়া।

কিশোরগঞ্জের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আদালতের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। আদালতের নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তারা হত্যার সঠিক তথ্য উপস্থাপন করে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

প্রয়োজনে বিমান টিকিট দেব, তবুও দেশে আসুন: হাসিনাকে তথ্য প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় হিফজ প্রতিযোগিতায় দেশসেরা দুই হাফেজ, নকলায় রাজকীয় সংবর্ধনা

06 November 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

কিশোরগঞ্জে কলেজছাত্র হত্যায় নারীসহ তিনজনের মৃত্যুদন্ড

পোষ্টের সময় : ০৩:৫৪:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ মে ২০২৫

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে কলেজছাত্র হত্যা মামলায় দুই নারীসহ তিনজনকে মৃত্যুদন্ডাদেশ দিয়েছে কিশোরগঞ্জের তৃতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত। এছাড়াও প্রত্যেক আসামিকে ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ডে দন্ডিত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ মে) দুপুরে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-৩ বিচারক ফাতেমা আক্তার স্বর্ণা এই রায় আদেশ দেন। প্রদত্ত সাজা ফাঁসির মাধ্যমে কার্যকর করার নির্দেশ দেন বিচারক। রায় ঘোষণার সময় মৃত্যুদন্ডের সাজাপ্রাপ্ত তিন আসামির মধ্যে দুইজন পলাতক ছিলেন।

 

মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দৌলতদিয়া গ্রামের মো. কাইয়ুম সরকারের স্ত্রী সেলিনা বেগম ওরফে শিউলী (২৫), একই জেলার আশুগঞ্জ উপজেলার সোনারামপুর গ্রামের আব্দুল খালেকের মেয়ে শোভা প্রকাশ মেঘলা (২০) এবং কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার ভৈরবপুর উত্তরপাড়ার মৃত সাহিল উদ্দিনের ছেলে মো. সুমন (২২)। সাজাপ্রাপ্ত আসামি শোভা প্রকাশ মেঘলা ও সুমন পলাতক রয়েছেন।

 

মামলা বিবরণে জানা যায়, কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার তারাকান্দি মধ্যপাড়ার মো. সামছুদ্দিন মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ আলী (২২)। ২০০৮ সালে মোহাম্মদ আলী ভৈরব হাজী হাসমত কলেজে বি.এস.সি প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিল। ২০০৮ সালের ৬ জানুয়ারি রাত ৯টার দিকে মোহাম্মদ আলী ও তার বন্ধু মুরাদকে ভৈরব হাজী হাসমত কলেজ গেটের ভেতরে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে দুষ্কৃতিকারীরা দুইজনকে এলোপাথাড়িভাবে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে। এ সময় অন্য ছাত্ররা তাদের উদ্ধার করে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোহাম্মদ আলীকে মৃত ঘোষণা করেন। আর গুরুতর আহত মুরাদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।

এ ঘটনায় নিহত মোহাম্মদ আলীর বাবা সামছুদ্দিন মিয়া ২০০৮ সালের ৭ জানুয়ারি ভৈরব থানায় মামলা দায়ের করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন এপিপি শফিউল জামান ভূঁইয়া।

কিশোরগঞ্জের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আদালতের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। আদালতের নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তারা হত্যার সঠিক তথ্য উপস্থাপন করে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

Share this news as a Photo Card