০৯:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘কোন হাত দিয়ে লিখিস’—বলেই, মুহূর্তে কোপে ঝরল সাংবাদিকের প্রাণ

 

বাগেরহাটে সাংবাদিক ও বিএনপি নেতা এ এস এম হায়াত উদ্দিন হত্যাকাণ্ডে দুই দিন পর অবশেষে মামলা হয়েছে। রোববার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিহতের মা হাসিনা বেগম বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। এতে মো. ইসরাইল মোল্লাকে প্রধান আসামি করে সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০–১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় হায়াত উদ্দিন নিজ বাড়ির পাশে সিদ্দিকের চায়ের দোকানে বসে চা পান করছিলেন। হঠাৎ তিনটি মোটরসাইকেলে করে ছয় থেকে সাতজন সন্ত্রাসী এসে তাঁকে ঘিরে ফেলে। তাদের একজন বলে ওঠে, ‘তুই কোন হাত দিয়ে লিখিস, সেই হাতটা দেখা।’ এই কথার পরই শুরু হয় নির্মম কোপানো। ধারালো অস্ত্র ও হাতুড়ি নিয়ে হামলা চালিয়ে তাঁকে গুরুতর জখম করা হয়।

 

হায়াত উদ্দিনকে দ্রুত স্থানীয়রা উদ্ধার করে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা হাসপাতাল এবং পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর আগেই চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যে, হামলাকারীরা এতটাই নৃশংস ছিল যে, প্রাণভিক্ষার পরও তাঁরা হামলা থামাননি। দৌড় দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন হায়াত উদ্দিন।

 

নিহত হায়াত উদ্দিন (৪০) বাগেরহাট শহরের হাড়িখালি এলাকার মৃত নিজাম উদ্দিনের ছেলে। তিনি দৈনিক ভোরের চেতনা পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক এবং সদ্য অনুষ্ঠিত বাগেরহাট পৌর বিএনপির সম্মেলনে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে প্রার্থী ছিলেন।

 

স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, হায়াত উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এলাকার মাদক ব্যবসা, ঠিকাদারি অনিয়ম ও রাজনৈতিক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন। এ কারণেই তিনি আগে একাধিকবার হামলার শিকার হন।

মামলার প্রধান আসামি ইসরাইল মোল্লা বিএনপির কর্মী এবং ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড হেলথ কেয়ার সোসাইটির সাংগঠনিক সম্পাদক। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে।

 

বাগেরহাট সদর থানার ওসি মাহামুদ-উল-হাসান জানান, নিহতের পরিবারের করা মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

প্রয়োজনে বিমান টিকিট দেব, তবুও দেশে আসুন: হাসিনাকে তথ্য প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় হিফজ প্রতিযোগিতায় দেশসেরা দুই হাফেজ, নকলায় রাজকীয় সংবর্ধনা

06 November 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

‘কোন হাত দিয়ে লিখিস’—বলেই, মুহূর্তে কোপে ঝরল সাংবাদিকের প্রাণ

পোষ্টের সময় : ১০:৫৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫

 

বাগেরহাটে সাংবাদিক ও বিএনপি নেতা এ এস এম হায়াত উদ্দিন হত্যাকাণ্ডে দুই দিন পর অবশেষে মামলা হয়েছে। রোববার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিহতের মা হাসিনা বেগম বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। এতে মো. ইসরাইল মোল্লাকে প্রধান আসামি করে সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০–১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় হায়াত উদ্দিন নিজ বাড়ির পাশে সিদ্দিকের চায়ের দোকানে বসে চা পান করছিলেন। হঠাৎ তিনটি মোটরসাইকেলে করে ছয় থেকে সাতজন সন্ত্রাসী এসে তাঁকে ঘিরে ফেলে। তাদের একজন বলে ওঠে, ‘তুই কোন হাত দিয়ে লিখিস, সেই হাতটা দেখা।’ এই কথার পরই শুরু হয় নির্মম কোপানো। ধারালো অস্ত্র ও হাতুড়ি নিয়ে হামলা চালিয়ে তাঁকে গুরুতর জখম করা হয়।

 

হায়াত উদ্দিনকে দ্রুত স্থানীয়রা উদ্ধার করে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা হাসপাতাল এবং পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর আগেই চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যে, হামলাকারীরা এতটাই নৃশংস ছিল যে, প্রাণভিক্ষার পরও তাঁরা হামলা থামাননি। দৌড় দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন হায়াত উদ্দিন।

 

নিহত হায়াত উদ্দিন (৪০) বাগেরহাট শহরের হাড়িখালি এলাকার মৃত নিজাম উদ্দিনের ছেলে। তিনি দৈনিক ভোরের চেতনা পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক এবং সদ্য অনুষ্ঠিত বাগেরহাট পৌর বিএনপির সম্মেলনে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে প্রার্থী ছিলেন।

 

স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, হায়াত উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এলাকার মাদক ব্যবসা, ঠিকাদারি অনিয়ম ও রাজনৈতিক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন। এ কারণেই তিনি আগে একাধিকবার হামলার শিকার হন।

মামলার প্রধান আসামি ইসরাইল মোল্লা বিএনপির কর্মী এবং ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড হেলথ কেয়ার সোসাইটির সাংগঠনিক সম্পাদক। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে।

 

বাগেরহাট সদর থানার ওসি মাহামুদ-উল-হাসান জানান, নিহতের পরিবারের করা মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

 

Share this news as a Photo Card