কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ধলনগর, মিরপুর ও চাঁদপুর গ্রামের কৃষকরা চলতি মৌসুমে আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত। দেড় বিঘা জমিতে লাউ চাষ করা শামিম আহমেদ ইতিমধ্যে সাড়ে তিন হাজার লাউ বিক্রি করেছেন, যার আয় হয়েছে এক লাখ ৭৮ হাজার টাকা। প্রতিটি লাউ শুরুতে ৫০–৫৫ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে ৪৮–৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খরচ মাত্র ৪০ হাজার টাকা, কিন্তু লাভের সম্ভাবনা তিন লাখ টাকা।
শামিমের মতো কুমারখালী উপজেলার মোট ৭৩৬ হেক্টর জমিতে লাউ, করলা, শিম, মুলা, লালশাকসহ নানা আগাম শীতকালীন সবজি আবাদ করা হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মতে, এই জমি থেকে প্রায় ১৭ হাজার টন সবজি উৎপাদন সম্ভব, যার বাজারমূল্য ৭৬–৮০ কোটি টাকা।
চাষে আধুনিক মালচিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখা, আগাছা দমন, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং উর্বরতা বৃদ্ধি করা যায়। গত বছর ১৫ শতাংশ জমিতে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছিল, এবার প্রায় ৩০ শতাংশ জমিতে মালচিং পদ্ধতি ব্যবহার হয়েছে।
কৃষকরা জানান, মালচিংয়ের কারণে পরিচর্চা খরচ কমে গেছে এবং ফলনও ভালো হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, ধলনগরের মোহন হোসেন ডন-১২৫ জাতের ফুলকপি চাষ করে ইতিমধ্যে ৭০ হাজার টাকার বিক্রি করেছেন। ওমর ফারুক করলা চাষ থেকে তিন মাসে ৩–৩.৫ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন।
বিক্রি নিয়ে ঝামেলা নেই। কুমারখালী পৌরসভা, পান্টি তহবাজারসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলা ও জেলা আড়তগুলোতে কৃষকরা সরাসরি পাইকারি বাজারে বিক্রি করছেন। দৈনিক ২০–২২ হাজার কেজি সবজি বেচাকেনা হচ্ছে, যার বাজারমূল্য ১০–১২ লাখ টাকা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাইসুল ইসলাম বলেন, অল্প খরচে বেশি লাভ হওয়ায় দিন দিন সবজি চাষে আগ্রহ বাড়ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলাম জানান, দেশকে এগিয়ে নিতে হলে কৃষকের পাশে থাকতে হবে।
স্টাফ রিপোর্টার 




















