চার দিনব্যাপী টানাপোড়েন ও অচলাবস্থার পর অবশেষে খাগড়াছড়িতে ‘জুম্ম ছাত্র-জনতা’র ডাকা সড়ক অবরোধ সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। কিশোরী মারমা সম্প্রদায়ের এক সদস্যকে যৌন হয়রানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এ আন্দোলন শুরু হয়েছিল। ঘটনাটিকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জনগণ, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নানা উদ্যোগ নেয়।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর অবরোধ আংশিকভাবে স্থগিত করা হলেও আজ ৪ অক্টোবর সকালে আন্দোলনকারীরা সংবাদ সম্মেলন করে পূর্ণ অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। সংগঠনের নেতারা জানান, প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে তাদের বেশ কিছু দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, তাই আপাতত তারা অবরোধ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
‘জুম্ম ছাত্র-জনতা’ সংগঠনের পক্ষ থেকে আট দফা দাবি জানানো হয়েছিল—এর মধ্যে ছিল ধর্ষণ মামলার দ্রুত বিচার, দায়ীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, ভুক্তভোগী পরিবারের ক্ষতিপূরণ, এবং ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকার তদন্ত। দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ তুলে নেওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে সাধারণ মানুষ।
অবরোধের কারণে গত কয়েকদিন ধরে খাগড়াছড়ির অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা কার্যত বন্ধ ছিল। রাস্তাঘাটে যানবাহন চলাচল না থাকায় পণ্য পরিবহন ও জনসাধারণের চলাচলে বিপর্যয় দেখা দেয়। ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়ে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও উপস্থিতি ছিল কম। অবরোধ প্রত্যাহারের পর সকাল থেকেই ধীরে ধীরে যান চলাচল শুরু হয়, দোকানপাট খোলে এবং জনজীবন ফিরে আসে স্বাভাবিক ছন্দে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবরোধ চলাকালীন যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেজন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছিল। পাশাপাশি অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তে খাগড়াছড়ির মানুষ যেমন স্বস্তি পেয়েছে, তেমনি অনেকেই আশা করছেন প্রশাসন প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি আর সৃষ্টি না হয়।
স্টাফ রিপোর্টার 




















