দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহধর্মিণী এবং দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বড় পুত্রবধূ ডা. জোবাইদা রহমান। মঙ্গলবার (৬ মে) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে কাতারের আমির প্রদত্ত একটি বিশেষ রাজকীয় বিমানে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।
একই ফ্লাইটে যুক্তরাজ্যে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর সঙ্গী ছিলেন কনিষ্ঠ পুত্রবধূ সৈয়দা শামিলা রহমান।
ডা. জোবাইদা রহমান রাজধানীর ধানমন্ডির ৫ নম্বর সড়কে অবস্থিত পৈতৃক নিবাস ‘মাহবুব ভবন’-এ উঠেছেন। তাঁর আগমন উপলক্ষে ওই বাড়িতে পূর্ব থেকেই চলছিল পরিচ্ছন্নতা ও শোভাসজ্জার কার্যক্রম। উল্লেখ্য, এ বাসভবনটি তাঁর পিতা, সাবেক নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের মালিকানাধীন। বর্তমানে ওই ভবনে বসবাস করছেন তাঁর মা সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু, বড় বোন শাহীনা জামান ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। সম্প্রতি সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ডা. জোবাইদা রহমান স্বামী তারেক রহমানের সঙ্গে দেশ ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে ওই বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশন কর্তৃক রাজধানীর কাফরুল থানায় তাঁদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। উক্ত মামলায় আদালত ডা. জোবাইদা রহমানকে তিন বছরের কারাদণ্ড এবং ৩৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করে।
সিলেটে জন্মগ্রহণকারী ডা. জোবাইদা রহমান ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৫ সালে তিনি স্বাস্থ্য ক্যাডারে বিসিএস পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করে সরকারি চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ২০০৮ সালে শিক্ষা ছুটি নিয়ে যুক্তরাজ্যে গমন করেন, পরবর্তীতে সরকার তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে। তিনি যুক্তরাজ্যের ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন থেকে মেডিসিনে এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন।
ডা. জোবাইদা রহমানের পিতা রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান ১৯৭৮ সালের ৪ নভেম্বর থেকে ১৯৮৪ সালের ৬ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সরকারের মন্ত্রিসভায় যোগাযোগ ও কৃষিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানী ডা. জোবাইদা রহমানের চাচা।





















