গাইবান্ধায় পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে আলোচনায় এসেছেন এক উপপরিদর্শকের (এসআই) স্ত্রী কাজলি খাতুন। তার স্বামী মনিরুজ্জামান গাইবান্ধা সদর থানায় কর্মরত ছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, দায়িত্ব পালনের সময় তার স্বামীকে হয়রানি, হুমকি ও মানহানির শিকার হতে হয় জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের হাতে।
মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন গাইবান্ধার পুলিশ সুপার (এসপি) নিশাত অ্যাঞ্জেলা, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর ইসলাম তালুকদার এবং তরুণ তারেকুজ্জামান তুহিন (২৩)। মামলার বিবরণে বলা হয়, এসপি অফিসে তলব করে মনিরুজ্জামানের কাছ থেকে তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ও থানার সরকারি ল্যাপটপ জব্দ করা হয়। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করানোর পর তাকে চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেওয়া হয়। এসব ঘটনার পেছনে ব্যক্তিগত বিদ্বেষ ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও তোলা হয়েছে।
আরও জানা যায়, তৃতীয় অভিযুক্ত তুহিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছাত্রলীগ ট্যাগ করে মনিরুজ্জামানের ছবি পোস্ট করেন এবং মিথ্যা অভিযোগ প্রচার করেন। এতে তার সামাজিক ও পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয় বলে দাবি মামলাকারীর।
গত ২২ অক্টোবর গাইবান্ধা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দাখিল করেন কাজলি খাতুন। আদালত অভিযোগটি গ্রহণ করে একজন এসপির নিচের পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেন এবং আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করেন।
অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গাইবান্ধা সদর থানার ওসি শাহিনুর ইসলাম তালুকদার জানান, এসআই মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে অফিসে ডাকা হয়েছিল। তার কাছ থেকে জব্দ করা মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ সিআইডির মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
এদিকে, ঘটনাটি স্থানীয় প্রশাসনসহ পুলিশ সদস্যদের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আইনজীবী মহল বলছে, বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে বিচার করা গেলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।
স্টাফ রিপোর্টার 






















