গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি কেমিক্যাল গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তা খন্দকার জান্নাতুল নাঈম (৩৭) দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন। শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
জান্নাতুল নাঈম ২২ সেপ্টেম্বর টঙ্গীর সাহারা মার্কেট এলাকায় আগুন নেভানোর সময় দগ্ধ হন। তিনি ফায়ার সার্ভিসে ২০১৬ সালে যোগদান করেন এবং বিভিন্ন স্টেশনে দায়িত্ব পালন করেছেন। নাঈম এক সন্তানের জনক ছিলেন। তাঁর এই মৃত্যু ফায়ার সার্ভিসের সাহসী সদস্যদের আত্মত্যাগের ইতিহাসে ৫১তম বীরের নাম হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হলো।
এই ঘটনায় আরও দুইজন ফায়ারফাইটার—শামীম আহমেদ ও নুরুল হুদা—চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা প্রতিনিয়ত জীবন ঝুঁকির মধ্যে থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। এই ঘটনা তাদের সাহসিকতা ও নিষ্ঠার প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডের পর মুহূর্তের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। তবে, কেমিক্যালের বিস্ফোরণ ও তীব্র ধোঁয়া তাদের কাজকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, এই ধরনের ঘটনার সময় তাদের জীবন সর্বাধিক ঝুঁকির মধ্যে থাকে, এবং তাদের এই আত্মত্যাগ দেশের নিরাপত্তা ও সাধারণ মানুষের সুরক্ষার জন্য অপরিহার্য।
পরিবার, সহকর্মী এবং সাধারণ মানুষ জান্নাতুল নাঈমের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে নিহত সদস্যদের পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
এই দুঃখজনক ঘটনায় দেশের অগ্নি নিরাপত্তা ও শ্রমিকদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আরও গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে। দগ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণকারী নাঈমসহ অন্যান্য ফায়ারফাইটারদের ত্যাগের মাধ্যমে দেশের জনসাধারণ নিরাপদ থাকছে।
স্টাফ রিপোর্টার 





















