১২:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গৌরীপুর মুক্ত দিবস উদযাপন

 

১৯৭১ এর উত্তাল সময়ে মুক্তিকামী ছাত্র, কৃষক, শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় বীরমুক্তিযোদ্ধারা সশস্ত্র লড়াইয়ের মাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনীকে হটিয়ে ৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের গৌরীপুরকে হানাদারমুক্ত করেন।

 

যথাযোগ্য মর্যাদায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে দিবসটি উদযাপন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে সোমবার সকাল ১১ টায় বর্ণাঢ্য বিজয় র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে বিজয় র‌্যালীটি উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে পৌর শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুণরায় উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।

 

পরে উপজেলা অফিসার্স ক্লাবে আলোসভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া আমীন পাপ্পা।

 

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহফুজ ইবনে আউয়ুব ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার কমল কুমার রায়।

 

আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুনন্দা সরকার প্রমা, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হাফেজ আজিজুল হক, উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শিহাব উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসিম আব্দুস ছাত্তার মন্ডল, গৌরীপুর পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আলী আকবর আনিছ, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সদস্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন, বীরমুক্তিযোদ্ধা গিয়াস উদ্দিন আহাম্মেদ, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মীর হোসেন মীরন, গৌরীপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি বেগ ফারুক আহাম্মদ, সাংবাদিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি শাহজাহান কবির হিরা প্রমুখ।

 

বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসের প্রথম দিকে মুক্তিযোদ্ধাদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে ৭ ডিসেম্বর রাতে পাক হানাদার বাহিনী গৌরীপুর ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। তাই দিনটি গৌরীপুরবাসীর জন্য এক বিজয়গাঁথা ইতিহাসের স্মরণীয় ও গৌরবময় দিন।

 

উল্লেখ্য যে, ডিসেম্বরের প্রথম দিকে গৌরীপুর শহর ছাড়া সমস্ত এলাকা মুক্তিযোদ্ধাদের দখলে চলে আসে। মুক্তিযোদ্ধাদের হামলায় পাক হানাদার বাহিনী ৭ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে শহর ছেড়ে রেলযোগে গৌরীপুর থেকে পালিয়ে যায়। ওই রাতেই একদল মুক্তিযোদ্ধার নিকট গৌরীপুর থানায় অবস্থানরত পুলিশ ও রাজাকাররা আত্মসমর্পন করে। এই খবর মুহুর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে শহরের মুক্তি পাগল জনতা জয় বাংলা ধ্বনিতে গৌরীপুরের আকাশ-বাতাস মুখরিত করে তোলে এবং প্রানঢালা অভিনন্দন জানিয়ে বরণ করে নেন বাংলার দুর্জয় সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের। মুক্ত হয় গৌরীপুর।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

হালুয়াঘাটে জনদুর্ভোগ ও অভিযোগের কথা শুনতে ইউএনওর গণশুনানি

জিন্নাহর অসুস্থতা গোপন রাখায় দুই ভারতীয় চিকিৎসককে পাকিস্তানের পুরস্কার

19 August 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

গৌরীপুর মুক্ত দিবস উদযাপন

পোষ্টের সময় : ১০:১২:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫

 

১৯৭১ এর উত্তাল সময়ে মুক্তিকামী ছাত্র, কৃষক, শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় বীরমুক্তিযোদ্ধারা সশস্ত্র লড়াইয়ের মাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনীকে হটিয়ে ৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের গৌরীপুরকে হানাদারমুক্ত করেন।

 

যথাযোগ্য মর্যাদায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে দিবসটি উদযাপন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে সোমবার সকাল ১১ টায় বর্ণাঢ্য বিজয় র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে বিজয় র‌্যালীটি উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে পৌর শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুণরায় উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।

 

পরে উপজেলা অফিসার্স ক্লাবে আলোসভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া আমীন পাপ্পা।

 

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহফুজ ইবনে আউয়ুব ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার কমল কুমার রায়।

 

আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুনন্দা সরকার প্রমা, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হাফেজ আজিজুল হক, উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শিহাব উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসিম আব্দুস ছাত্তার মন্ডল, গৌরীপুর পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আলী আকবর আনিছ, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সদস্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন, বীরমুক্তিযোদ্ধা গিয়াস উদ্দিন আহাম্মেদ, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মীর হোসেন মীরন, গৌরীপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি বেগ ফারুক আহাম্মদ, সাংবাদিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি শাহজাহান কবির হিরা প্রমুখ।

 

বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসের প্রথম দিকে মুক্তিযোদ্ধাদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে ৭ ডিসেম্বর রাতে পাক হানাদার বাহিনী গৌরীপুর ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। তাই দিনটি গৌরীপুরবাসীর জন্য এক বিজয়গাঁথা ইতিহাসের স্মরণীয় ও গৌরবময় দিন।

 

উল্লেখ্য যে, ডিসেম্বরের প্রথম দিকে গৌরীপুর শহর ছাড়া সমস্ত এলাকা মুক্তিযোদ্ধাদের দখলে চলে আসে। মুক্তিযোদ্ধাদের হামলায় পাক হানাদার বাহিনী ৭ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে শহর ছেড়ে রেলযোগে গৌরীপুর থেকে পালিয়ে যায়। ওই রাতেই একদল মুক্তিযোদ্ধার নিকট গৌরীপুর থানায় অবস্থানরত পুলিশ ও রাজাকাররা আত্মসমর্পন করে। এই খবর মুহুর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে শহরের মুক্তি পাগল জনতা জয় বাংলা ধ্বনিতে গৌরীপুরের আকাশ-বাতাস মুখরিত করে তোলে এবং প্রানঢালা অভিনন্দন জানিয়ে বরণ করে নেন বাংলার দুর্জয় সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের। মুক্ত হয় গৌরীপুর।

 

Share this news as a Photo Card