চট্টগ্রাম শহর রক্ষা বাঁধের সংরক্ষিত জমি বর্তমানে নানা ব্যক্তিমালিকানা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। মূলত এই জমি শহরকে বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষার জন্য সংরক্ষিত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠান এই জমি নিজের দখলে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৪০ হাজার টন ক্ষমতার এলপিজি প্লান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে। এজন্য তারা চট্টগ্রাম শহর রক্ষা বাঁধের ৫০ একর জমি বরাদ্দ চেয়েছে। বিপিসি ইতিমধ্যে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে এবং প্রকল্পের অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছে।
তবে এই জমি নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে বিরোধ শুরু হয়েছে। হালিশহর হাউজিং এস্টেটের বাসিন্দা জামাল উদ্দিন বহু বছর ধরে এই জমি ব্যবহার করে ট্রাক, এক্সক্যাভেটর ডিপো পরিচালনা করছেন। তিনি লিজ পেতে চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডে আবেদন করলেও অনুমতি না পেয়ে হাইকোর্টে মামলা করেছেন। নুরুল হুদা চৌধুরীও ১৩.৬৫ একর জমি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন। তিনি লরি, কার্ভাডভ্যান ডিপো পরিচালনা করে আয় করছেন এবং স্থায়ী বরাদ্দ চাইছেন।
১৯৭০ সালে এই জমি সরকারি অধিগ্রহণের মাধ্যমে শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য সংরক্ষিত করা হয়। বাঁধ নির্মাণের পর অবশিষ্ট জমি আপৎকালীন রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। পাউবো জানিয়েছে, লিজের জন্য আবেদন করা যায়, কিন্তু জমি দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই।
জমি দখল এবং বরাদ্দের এই লড়াইয়ে প্রায় ১,১৭০ কোটি টাকার সম্পত্তি জড়িত। বিপিসি আশা করছে, চট্টগ্রাম বন্দরে এলপিজি প্লান্ট স্থাপন করলে দেশের অভ্যন্তরে কম খরচে এলপিজি আমদানি ও সরবরাহ সম্ভব হবে। এতে দেশে জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়বে এবং এলপিজি সরবরাহের সংকটও কমবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানের আকাঙ্ক্ষা এবং সরকারি পরিকল্পনার মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। বর্তমানে হাইকোর্টে মামলা চলমান এবং জমির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিয়ে দফায় দফায় সমঝোতার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
স্টাফ রিপোর্টার 





















