মৌলভীবাজার জেলা এখন ট্যুরিজমের নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৫-এর প্রতিপাদ্য ‘টেকসই উন্নয়নে পর্যটন’ অনুযায়ী, জেলা পর্যটনের ক্ষেত্রেও দায়িত্বশীল এবং টেকসই উদ্যোগের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখাচ্ছে। চা বাগানের মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ, পাহাড়ি জনপদের প্রাচীন শুদ্ধতা এবং ক্ষুদ্র জাতিসত্তার বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি মিলিয়ে এখানকার ট্যুরিজমকে শুধু দর্শনের জন্য সীমাবদ্ধ রাখছে না, বরং অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করছে।
টি-ট্যুরিজম স্থানীয় অর্থনীতি, নারী উদ্যোক্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সংস্কৃতির টেকসই চর্চার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে গেছে। পর্যটকদের জন্য গ্রামীণ জীবনধারার অভিজ্ঞতা, চা পাতা তোলা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রক্রিয়ার সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করছে। ফলে পর্যটকরা শুধু দর্শন নয়, বাস্তব জীবনের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করছেন।
শুধু পর্যটক নয়, স্থানীয়রা এই উদ্যোগ থেকে উপকৃত হচ্ছে। গ্রামীণ জনপদে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। স্থানীয় নারী ও যুবকরা বিভিন্ন পর্যটন কার্যক্রমে নিযুক্ত হয়ে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। পরিবেশবান্ধব স্থাপত্য এবং প্রকৃতি সংরক্ষণে মনোযোগ দেয়ার কারণে মৌলভীবাজারের ট্যুরিজম টেকসই ও দায়িত্বশীল রূপ গ্রহণ করেছে।
এছাড়া, জেলা প্রশাসন ‘চায়ের দেশ’ নামে একটি তথ্যভাণ্ডার ওয়েব পোর্টাল চালু এবং আধুনিক আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে উচ্চমানের মোটেল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। এসব পদক্ষেপ স্থানীয় সংস্কৃতি ও ইতিহাসের সঙ্গে পর্যটনের সংযোগকে আরও শক্তিশালী করেছে।
মৌলভীবাজারে টি-ট্যুরিজম শুধু দর্শককে আকর্ষণ করছে না, বরং স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নে এবং টেকসই অর্থনীতির গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জেলা পর্যটনের নতুন সম্ভাবনার প্রতিফলন এই টেকসই উদ্যোগের মাধ্যমে সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
স্টাফ রিপোর্টার 





















