০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় মরদেহ আটকে সুদ আদায়

  • স্টাফ রিপোর্টার
  • পোষ্টের সময় : ১১:৪৫:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ২৭৭ ভিউ :

 

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার চিৎলা গ্রামে একটি হৃদয়বিদারক ও অমানবিক ঘটনা ঘটেছে। জানা গেছে, হারুন নামের এক রাজমিস্ত্রী গত ২০ সেপ্টেম্বর মেহেরপুরে মেয়ের বাড়ি বেড়াতে গিয়ে স্ট্রোক করে মারা যান। মৃত্যুর পর তার পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি গ্রামে নিয়ে আসেন এবং দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

 

কিন্তু সেই সময় হারুনের কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা সুদ পাওয়ার দাবি করেন স্থানীয় মর্জিনা খাতুন। তিনি পরিবারের সদস্যদের সরাসরি জানিয়ে দেন, সুদ পরিশোধ না করলে মরদেহ দাফন করতে দেওয়া হবে না। পরিবারের লোকেরা বাধ্য হয়ে প্রায় এক ঘণ্টা পর ওই টাকা পরিশোধ করেন। টাকা নেওয়ার পর মর্জিনা পরিস্থিতি ছাড়িয়ে যান।

 

স্থানীয় ইউপি সদস্য আতিয়ার রহমান বলেন, “মৃত্যুর পর মরদেহ আটকে রেখে সুদ আদায় করা সমাজের জন্য লজ্জাজনক ও নিন্দনীয় কাজ। এমন ঘটনা মানবতার লঙ্ঘন এবং সমাজে ন্যাক্কারজনক উদাহরণ সৃষ্টি করে।” তিনি আরও জানান, মর্জিনা দীর্ঘদিন ধরে সুদের ব্যবসা করে আসছেন।

 

দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর জানান, “আমার জানা মতে এই ধরনের ঘটনা আগে হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

স্থানীয়রা এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং নিন্দা জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, মৃত্যুর পর মরদেহ আটকে সুদ আদায়ের ঘটনা সমাজের জন্য লজ্জার কারণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই ঘটনা ব্যাপক আলোচিত হয়েছে।

 

এ ধরনের অমানবিক কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয়ের সঞ্চার করছে এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। অনেকে এটিকে সমাজের নৈতিক অবক্ষয় ও মানবিকতার লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

ঈশ্বরগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

ঈশ্বরগঞ্জের ২০০ বছরের পুরোনো মসজিদের নতুন কমিটি

21 August 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

চুয়াডাঙ্গায় মরদেহ আটকে সুদ আদায়

পোষ্টের সময় : ১১:৪৫:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

 

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার চিৎলা গ্রামে একটি হৃদয়বিদারক ও অমানবিক ঘটনা ঘটেছে। জানা গেছে, হারুন নামের এক রাজমিস্ত্রী গত ২০ সেপ্টেম্বর মেহেরপুরে মেয়ের বাড়ি বেড়াতে গিয়ে স্ট্রোক করে মারা যান। মৃত্যুর পর তার পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি গ্রামে নিয়ে আসেন এবং দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

 

কিন্তু সেই সময় হারুনের কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা সুদ পাওয়ার দাবি করেন স্থানীয় মর্জিনা খাতুন। তিনি পরিবারের সদস্যদের সরাসরি জানিয়ে দেন, সুদ পরিশোধ না করলে মরদেহ দাফন করতে দেওয়া হবে না। পরিবারের লোকেরা বাধ্য হয়ে প্রায় এক ঘণ্টা পর ওই টাকা পরিশোধ করেন। টাকা নেওয়ার পর মর্জিনা পরিস্থিতি ছাড়িয়ে যান।

 

স্থানীয় ইউপি সদস্য আতিয়ার রহমান বলেন, “মৃত্যুর পর মরদেহ আটকে রেখে সুদ আদায় করা সমাজের জন্য লজ্জাজনক ও নিন্দনীয় কাজ। এমন ঘটনা মানবতার লঙ্ঘন এবং সমাজে ন্যাক্কারজনক উদাহরণ সৃষ্টি করে।” তিনি আরও জানান, মর্জিনা দীর্ঘদিন ধরে সুদের ব্যবসা করে আসছেন।

 

দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর জানান, “আমার জানা মতে এই ধরনের ঘটনা আগে হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

স্থানীয়রা এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং নিন্দা জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, মৃত্যুর পর মরদেহ আটকে সুদ আদায়ের ঘটনা সমাজের জন্য লজ্জার কারণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই ঘটনা ব্যাপক আলোচিত হয়েছে।

 

এ ধরনের অমানবিক কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয়ের সঞ্চার করছে এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। অনেকে এটিকে সমাজের নৈতিক অবক্ষয় ও মানবিকতার লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন।

 

Share this news as a Photo Card