০৬:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জায়গা কেনা নিয়ে বিরোধ, মহিলা ইউপি সদস্যসহ পরিবার ১০ দিন ধরে অবরুদ্ধ

 

নেত্রকোনার মদনে জায়গা কেনা নিয়ে বিরোধের জেরে এক ইউপি সদস্যসহ তার পরিবারকে টানা ১০ দিন ধরে অবরুদ্ধ করে রেখেছে প্রতিবেশী প্রভাবশালী একদল লোক। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য কুহিনুর আক্তার প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গোবিন্দশ্রী ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য কুহিনুর আক্তারের সঙ্গে প্রতিবেশী সাব্বির, শাহজাহান, আলমঙ্গীর, আজাহান ও ফরিদ মিয়াদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির জায়গা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে গত ১১ আগস্ট তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে কুহিনুর আক্তারের বাড়ি থেকে বের হওয়ার একমাত্র যাতায়াতের রাস্তা তারা বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে ইউপি সদস্য কুহিনুর ও তার পরিবার অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন।

 

কুহিনুর আক্তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, “আমার এক মেয়ে গর্ভবতী, চিকিৎসার জন্য ডাক্তার দেখাতে যেতে পারছে না। আরেক মেয়ে মাদ্রাসায় চাকরি করে, সেও যেতে পারছে না। আমার নাতিরও মাদ্রাসায় যাওয়া বন্ধ রয়েছে।”

 

অভিযোগের প্রেক্ষিতে বুধবার স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে দেখা যায়, বাড়ির উঠান বরাবর যাতায়াতের রাস্তা বেড়া দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। সাংবাদিকরা পরিচয় দেওয়ার পরও ২০ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়, পরে বিকল্প পথে কুহিনুর আক্তারের বাড়িতে প্রবেশ করতে সক্ষম হন তারা।

 

এ সময় বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে গিয়ে সাময়িকভাবে বেড়া সরিয়ে যাতায়াতের জন্য ছোট একটি রাস্তা খোলা রাখেন। তবে পরে আবারও চলাচলে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন কুহিনুর আক্তার।

 

অভিযুক্ত সাব্বুল মিয়া সাংবাদিকদের জানান, “মহিলাদের মধ্যে ঝগড়া হয়েছে, কী নিয়ে হয়েছে তা আমি বলতে পারব না।” তবে রাস্তা কেন বন্ধ করা হয়েছে—এ প্রশ্নে তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি।

 

ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মোবারক হোসেন বলেন, “আমরা সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে সামান্য রাস্তা খুলে দিয়েছিলাম যাতে তারা চলাচল করতে পারে। দুই পক্ষকেই বলেছি বাড়াবাড়ি না করতে।”

 

এ বিষয়ে এএসআই সাদেকুর রহমান জানান, ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে আপাতত চলাচলে যেন কোনো বাধা সৃষ্টি না হয় সে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল দুই পক্ষকে ইউএনও ডেকেছেন।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অলিদুজ্জামান বলেন, “ওসি সাহেব আমাকে জানিয়েছেন আপাতত চলাচলের রাস্তা খোলা হয়েছে। এ বিষয়ে আগামীকাল উভয় পক্ষকে ডাকা হয়েছে। তাদের বক্তব্য শোনার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

প্রয়োজনে বিমান টিকিট দেব, তবুও দেশে আসুন: হাসিনাকে তথ্য প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় হিফজ প্রতিযোগিতায় দেশসেরা দুই হাফেজ, নকলায় রাজকীয় সংবর্ধনা

06 November 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

জায়গা কেনা নিয়ে বিরোধ, মহিলা ইউপি সদস্যসহ পরিবার ১০ দিন ধরে অবরুদ্ধ

পোষ্টের সময় : ০৫:০৮:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ অগাস্ট ২০২৫

 

নেত্রকোনার মদনে জায়গা কেনা নিয়ে বিরোধের জেরে এক ইউপি সদস্যসহ তার পরিবারকে টানা ১০ দিন ধরে অবরুদ্ধ করে রেখেছে প্রতিবেশী প্রভাবশালী একদল লোক। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য কুহিনুর আক্তার প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গোবিন্দশ্রী ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য কুহিনুর আক্তারের সঙ্গে প্রতিবেশী সাব্বির, শাহজাহান, আলমঙ্গীর, আজাহান ও ফরিদ মিয়াদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির জায়গা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে গত ১১ আগস্ট তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে কুহিনুর আক্তারের বাড়ি থেকে বের হওয়ার একমাত্র যাতায়াতের রাস্তা তারা বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে ইউপি সদস্য কুহিনুর ও তার পরিবার অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন।

 

কুহিনুর আক্তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, “আমার এক মেয়ে গর্ভবতী, চিকিৎসার জন্য ডাক্তার দেখাতে যেতে পারছে না। আরেক মেয়ে মাদ্রাসায় চাকরি করে, সেও যেতে পারছে না। আমার নাতিরও মাদ্রাসায় যাওয়া বন্ধ রয়েছে।”

 

অভিযোগের প্রেক্ষিতে বুধবার স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে দেখা যায়, বাড়ির উঠান বরাবর যাতায়াতের রাস্তা বেড়া দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। সাংবাদিকরা পরিচয় দেওয়ার পরও ২০ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়, পরে বিকল্প পথে কুহিনুর আক্তারের বাড়িতে প্রবেশ করতে সক্ষম হন তারা।

 

এ সময় বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে গিয়ে সাময়িকভাবে বেড়া সরিয়ে যাতায়াতের জন্য ছোট একটি রাস্তা খোলা রাখেন। তবে পরে আবারও চলাচলে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন কুহিনুর আক্তার।

 

অভিযুক্ত সাব্বুল মিয়া সাংবাদিকদের জানান, “মহিলাদের মধ্যে ঝগড়া হয়েছে, কী নিয়ে হয়েছে তা আমি বলতে পারব না।” তবে রাস্তা কেন বন্ধ করা হয়েছে—এ প্রশ্নে তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি।

 

ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মোবারক হোসেন বলেন, “আমরা সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে সামান্য রাস্তা খুলে দিয়েছিলাম যাতে তারা চলাচল করতে পারে। দুই পক্ষকেই বলেছি বাড়াবাড়ি না করতে।”

 

এ বিষয়ে এএসআই সাদেকুর রহমান জানান, ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে আপাতত চলাচলে যেন কোনো বাধা সৃষ্টি না হয় সে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল দুই পক্ষকে ইউএনও ডেকেছেন।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অলিদুজ্জামান বলেন, “ওসি সাহেব আমাকে জানিয়েছেন আপাতত চলাচলের রাস্তা খোলা হয়েছে। এ বিষয়ে আগামীকাল উভয় পক্ষকে ডাকা হয়েছে। তাদের বক্তব্য শোনার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

Share this news as a Photo Card