১১:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই অভ্যুত্থানে বিচার আইনে চার দফা সংশোধন

 

অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন-এ ধারাবাহিকভাবে চার দফা সংশোধনী এনেছে। গত বছর ১৭ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল নতুন করে বিচারকাজ শুরু করার পর থেকে এসব সংশোধন আনা হয়, যা সরকারের মতে সময়োপযোগী ও কার্যকর বিচার নিশ্চিতের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।

 

প্রথম সংশোধনী আনা হয় গত বছরের ২৪ নভেম্বর। এর আগে কেবল বাংলাদেশের ভেতরে সংঘটিত অপরাধ বিচারযোগ্য ছিল, এখন দেশের বাইরে সংঘটিত অপরাধও ট্রাইব্যুনালের আওতায় এসেছে। একই সঙ্গে আইনে যুক্ত হয়েছে একাধিক ধারা—যে কোনো দেশের নাগরিক বাংলাদেশের ভেতরে অপরাধ করলে তার বিচার করা যাবে; সব ধরনের বাহিনী ও সংস্থার সদস্যরাও এই আইনের আওতায় থাকবেন। তাছাড়া আক্রমণ, নিপীড়ন, গুম, যৌনদাসী, জোরপূর্বক গর্ভধারণ, জোরপূর্বক বন্ধ্যাকরণসহ নানা কর্মকাণ্ডকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

 

এই সংশোধনীর মাধ্যমে ট্রাইব্যুনাল অডিও-ভিডিও রেকর্ড ও ভার্চুয়াল শুনানির ক্ষমতা পায়। ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের উপস্থিতি ছাড়াও বিচার চালানো সম্ভব হয়। এমনকি বিদেশি আইনজীবীও ট্রাইব্যুনালে অংশ নিতে পারবেন।

 

দ্বিতীয় সংশোধনী আসে ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি। এতে আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের সময় ছয় সপ্তাহ থেকে কমিয়ে তিন সপ্তাহ করা হয়, দ্রুত বিচার সম্পন্নের লক্ষ্যে। ট্রাইব্যুনালকে দেওয়া হয় আরও কিছু ক্ষমতা—অভিযুক্তের সম্পদ জব্দ, বিদেশ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং অনুমতি ছাড়াই তল্লাশি ও জব্দের অধিকার।

 

এরপর ১০ মে তৃতীয় সংশোধনীতে রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও ব্যক্তিগোষ্ঠীকেও বিচারের আওতায় আনার বিধান যুক্ত হয়। আগে কেবল ব্যক্তিকেন্দ্রিক অভিযোগই বিচারযোগ্য ছিল।

 

সবশেষ ৬ অক্টোবর চতুর্থ সংশোধনী জারি হয়, যেখানে নতুন ধারা ২০(সি) যোগ করা হয়। এতে বলা হয়, মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত কেউ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের পর থেকে নির্বাচন বা সরকারি কোনো পদে থাকতে পারবেন না। ফলে গত বছরের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনারও নির্বাচন করার যোগ্যতা বাতিল হয়।

 

গেজেটে উল্লেখ করা হয়, এই আইন ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা পাবে—অর্থাৎ আইন পাসের আগে সংঘটিত ঘটনাও এর আওতায় পড়বে। আইনি মহলে এটি নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

২০১০ সালে আওয়ামী লীগ সরকার মুক্তিযুদ্ধকালীন অপরাধের বিচার শুরু করেছিল এই ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে। সরকার পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার একই আইনে জুলাই গণহত্যার বিচার শুরু করেছে। আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, “জুলাই গণহত্যার বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেই হবে।”

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

জাতীয় হিফজ প্রতিযোগিতায় দেশসেরা দুই হাফেজ, নকলায় রাজকীয় সংবর্ধনা

হালুয়াঘাটে ইয়াবাসহ আটক ২

04 November 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

জুলাই অভ্যুত্থানে বিচার আইনে চার দফা সংশোধন

পোষ্টের সময় : ০৪:৫৯:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৫

 

অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন-এ ধারাবাহিকভাবে চার দফা সংশোধনী এনেছে। গত বছর ১৭ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল নতুন করে বিচারকাজ শুরু করার পর থেকে এসব সংশোধন আনা হয়, যা সরকারের মতে সময়োপযোগী ও কার্যকর বিচার নিশ্চিতের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।

 

প্রথম সংশোধনী আনা হয় গত বছরের ২৪ নভেম্বর। এর আগে কেবল বাংলাদেশের ভেতরে সংঘটিত অপরাধ বিচারযোগ্য ছিল, এখন দেশের বাইরে সংঘটিত অপরাধও ট্রাইব্যুনালের আওতায় এসেছে। একই সঙ্গে আইনে যুক্ত হয়েছে একাধিক ধারা—যে কোনো দেশের নাগরিক বাংলাদেশের ভেতরে অপরাধ করলে তার বিচার করা যাবে; সব ধরনের বাহিনী ও সংস্থার সদস্যরাও এই আইনের আওতায় থাকবেন। তাছাড়া আক্রমণ, নিপীড়ন, গুম, যৌনদাসী, জোরপূর্বক গর্ভধারণ, জোরপূর্বক বন্ধ্যাকরণসহ নানা কর্মকাণ্ডকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

 

এই সংশোধনীর মাধ্যমে ট্রাইব্যুনাল অডিও-ভিডিও রেকর্ড ও ভার্চুয়াল শুনানির ক্ষমতা পায়। ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের উপস্থিতি ছাড়াও বিচার চালানো সম্ভব হয়। এমনকি বিদেশি আইনজীবীও ট্রাইব্যুনালে অংশ নিতে পারবেন।

 

দ্বিতীয় সংশোধনী আসে ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি। এতে আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের সময় ছয় সপ্তাহ থেকে কমিয়ে তিন সপ্তাহ করা হয়, দ্রুত বিচার সম্পন্নের লক্ষ্যে। ট্রাইব্যুনালকে দেওয়া হয় আরও কিছু ক্ষমতা—অভিযুক্তের সম্পদ জব্দ, বিদেশ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং অনুমতি ছাড়াই তল্লাশি ও জব্দের অধিকার।

 

এরপর ১০ মে তৃতীয় সংশোধনীতে রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও ব্যক্তিগোষ্ঠীকেও বিচারের আওতায় আনার বিধান যুক্ত হয়। আগে কেবল ব্যক্তিকেন্দ্রিক অভিযোগই বিচারযোগ্য ছিল।

 

সবশেষ ৬ অক্টোবর চতুর্থ সংশোধনী জারি হয়, যেখানে নতুন ধারা ২০(সি) যোগ করা হয়। এতে বলা হয়, মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত কেউ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের পর থেকে নির্বাচন বা সরকারি কোনো পদে থাকতে পারবেন না। ফলে গত বছরের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনারও নির্বাচন করার যোগ্যতা বাতিল হয়।

 

গেজেটে উল্লেখ করা হয়, এই আইন ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা পাবে—অর্থাৎ আইন পাসের আগে সংঘটিত ঘটনাও এর আওতায় পড়বে। আইনি মহলে এটি নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

২০১০ সালে আওয়ামী লীগ সরকার মুক্তিযুদ্ধকালীন অপরাধের বিচার শুরু করেছিল এই ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে। সরকার পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার একই আইনে জুলাই গণহত্যার বিচার শুরু করেছে। আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, “জুলাই গণহত্যার বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেই হবে।”

 

Share this news as a Photo Card