০৭:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই শহীদ-যোদ্ধাদের জন্য বিশাল আবাসন প্রকল্প

 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং আহত জুলাই যোদ্ধাদের জন্য রাজধানীর মিরপুরে দুটি পৃথক আবাসন প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। স্থায়ী আবাস নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শহীদ পরিবারদের জন্য মিরপুর ৯ নম্বর সেকশনে ‘৩৬ জুলাই’ নামে একটি বিশেষ আবাসন প্রকল্পে ৮০৪টি ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে আন্দোলনে আহত ও কর্মক্ষমতা হারানো জুলাই যোদ্ধাদের জন্য নির্মাণ করা হবে ১ হাজার ৫৬০টি আবাসিক ইউনিট, যেগুলো পুরোপুরি বিনামূল্যে বরাদ্দ দেওয়া হবে।

 

সোমবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে মোট ১৭টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন পায়। এসব প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ৩৮৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে আসবে ৯ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা, বিদেশি ঋণ হিসেবে পাওয়া যাবে ৫১০ কোটি টাকা এবং সংশ্লিষ্ট বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলো নিজেদের তহবিল থেকে যোগান দেবে ৩৭৯ কোটি টাকা। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদসহ অন্যান্য উপদেষ্টা ও সচিবরা।

 

শহীদ পরিবারের জন্য ৮০৪টি ফ্ল্যাট

 

গত বছরের জুলাই–আগস্টে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহতদের পরিবারকে উন্নত আবাসন সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে এই ৮০৪টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন মিরপুর হাউজিং এস্টেটের ১৪ নম্বর সেকশনে, মিরপুর পুলিশ লাইনের পাশে প্রায় ৫ একর জমিতে গড়ে উঠবে এই আবাসন। মোট ১৮টি ভবনে প্রতিটি ১,৩৫৫ বর্গফুট আয়তনের ফ্ল্যাট তৈরি করবে গণপূর্ত অধিদপ্তর।

 

প্রকল্পের আওতায় আধুনিক সব আবাসিক সুবিধা থাকবে—যথা লিফট, খেলার মাঠ, অভ্যন্তরীণ সড়ক, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পর্যাপ্ত সবুজায়ন। পাশাপাশি কমিউনিটি স্পেস, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র এবং জরুরি সেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

 

সরকারের দাবি, এই দু’টি বড় প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শহীদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের পরিবার দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ আবাসনের নিশ্চয়তা পাবে এবং রাজধানীতে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

জাতীয় হিফজ প্রতিযোগিতায় দেশসেরা দুই হাফেজ, নকলায় রাজকীয় সংবর্ধনা

হালুয়াঘাটে ইয়াবাসহ আটক ২

04 November 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

জুলাই শহীদ-যোদ্ধাদের জন্য বিশাল আবাসন প্রকল্প

পোষ্টের সময় : ১০:০০:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫

 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং আহত জুলাই যোদ্ধাদের জন্য রাজধানীর মিরপুরে দুটি পৃথক আবাসন প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। স্থায়ী আবাস নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শহীদ পরিবারদের জন্য মিরপুর ৯ নম্বর সেকশনে ‘৩৬ জুলাই’ নামে একটি বিশেষ আবাসন প্রকল্পে ৮০৪টি ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে আন্দোলনে আহত ও কর্মক্ষমতা হারানো জুলাই যোদ্ধাদের জন্য নির্মাণ করা হবে ১ হাজার ৫৬০টি আবাসিক ইউনিট, যেগুলো পুরোপুরি বিনামূল্যে বরাদ্দ দেওয়া হবে।

 

সোমবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে মোট ১৭টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন পায়। এসব প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ৩৮৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে আসবে ৯ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা, বিদেশি ঋণ হিসেবে পাওয়া যাবে ৫১০ কোটি টাকা এবং সংশ্লিষ্ট বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলো নিজেদের তহবিল থেকে যোগান দেবে ৩৭৯ কোটি টাকা। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদসহ অন্যান্য উপদেষ্টা ও সচিবরা।

 

শহীদ পরিবারের জন্য ৮০৪টি ফ্ল্যাট

 

গত বছরের জুলাই–আগস্টে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহতদের পরিবারকে উন্নত আবাসন সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে এই ৮০৪টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন মিরপুর হাউজিং এস্টেটের ১৪ নম্বর সেকশনে, মিরপুর পুলিশ লাইনের পাশে প্রায় ৫ একর জমিতে গড়ে উঠবে এই আবাসন। মোট ১৮টি ভবনে প্রতিটি ১,৩৫৫ বর্গফুট আয়তনের ফ্ল্যাট তৈরি করবে গণপূর্ত অধিদপ্তর।

 

প্রকল্পের আওতায় আধুনিক সব আবাসিক সুবিধা থাকবে—যথা লিফট, খেলার মাঠ, অভ্যন্তরীণ সড়ক, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পর্যাপ্ত সবুজায়ন। পাশাপাশি কমিউনিটি স্পেস, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র এবং জরুরি সেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

 

সরকারের দাবি, এই দু’টি বড় প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শহীদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের পরিবার দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ আবাসনের নিশ্চয়তা পাবে এবং রাজধানীতে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।

Share this news as a Photo Card