০৪:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঝিনাইদহ ইটভাটায় শিশু-কিশোরের জীবনের ঝুঁকি

  • স্টাফ রিপোর্টার
  • পোষ্টের সময় : ১২:০৩:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৩২২ ভিউ :

 

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ইটভাটাগুলোতে শিশু-কিশোরদের জীবন ও শিক্ষা বিপন্ন হচ্ছে। বছরের ছয় মাস চলে ইট উৎপাদনের মৌসুম। আশপাশের জেলাগুলো থেকে দরিদ্র শ্রমিকরা পরিবারসহ এখানে আসে। উপজেলার ১৬টি ইটভাটায় কাজ করেন প্রায় পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ। সঙ্গে থাকে তাদের সন্তানরা। অনেক শিশু-কিশোর ভাটার ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যুক্ত, ফলে তারা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত।

 

স্থানীয় ভাটাগুলোর মালিকরা অস্থায়ী কলোনি তৈরি করেন, যেখানে শ্রমিকরা বসবাস করেন। ঘরগুলো পলিথিনের ছাউনিসহ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে। বিশ্বাস ইটভাটার ১৬ বছরের আনিচুর দিনে ১২০ টাকা, বাবা কালাম হোসেন ৬২০ টাকা উপার্জন করেন। এই আয়েই পাঁচজনের পরিবার চলে। আনিচুর অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে, এখন কাজের প্রয়োজনেই স্কুল ত্যাগ করেছে।

 

মথুরাপুর এলাকার মেসার্স আসাদ-জাহাঙ্গীর ব্রিকস কলোনিতে ১১ বছরের জান্নাতি খাতুন পড়াশোনা ছাড়ে। মা-বাবা কাজের সময় ১৮ মাস বয়সী ভাইকে দেখাশোনা করতে হয় তাকে। অন্যান্য শিশু-কিশোরও একই পরিস্থিতিতে স্কুলে যায় না।

 

১৪ বছর বয়সের শিশুদের কাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ১৪-১৮ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের ঝুঁকিমুক্ত কাজের শর্তও মানা হচ্ছে না। প্রশাসন, শিশু একাডেমি এবং শ্রম দপ্তরের সচেতনতা কার্যক্রম কার্যকর হচ্ছে না।

 

মেসার্স আসাদ-জাহাঙ্গীর ব্রিকসের মালিক জানায়, শ্রমিকদের সঙ্গে কোনো চুক্তি নেই; সর্দারাই পারিশ্রমিক নির্ধারণ করেন। শিশুদের কাজ করানো মূলত পরিবারের আর্থিক প্রয়োজনের কারণে। শিশু-কিশোররা দিনে মা-বাবার কাজে সহায়তা করে।

 

ঝিনাইদহ জেলা শিশুবিষয়ক কর্মকর্তা ও পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি বলেন, ভাটার শ্রমিক ও শিশু-কিশোরদের স্বাস্থ্যঝুঁকি প্রচণ্ড। তাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ জরুরি। জেলা প্রশাসক জানান, আইনবহির্ভূত কোনো কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

সরকারের ৬ মাস, ব্যক্তির বৃত্ত থেকে এখন জনগণের দোয়ারে

কেন্দুয়ায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র‍্যালী

16 August 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

ঝিনাইদহ ইটভাটায় শিশু-কিশোরের জীবনের ঝুঁকি

পোষ্টের সময় : ১২:০৩:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫

 

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ইটভাটাগুলোতে শিশু-কিশোরদের জীবন ও শিক্ষা বিপন্ন হচ্ছে। বছরের ছয় মাস চলে ইট উৎপাদনের মৌসুম। আশপাশের জেলাগুলো থেকে দরিদ্র শ্রমিকরা পরিবারসহ এখানে আসে। উপজেলার ১৬টি ইটভাটায় কাজ করেন প্রায় পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ। সঙ্গে থাকে তাদের সন্তানরা। অনেক শিশু-কিশোর ভাটার ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যুক্ত, ফলে তারা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত।

 

স্থানীয় ভাটাগুলোর মালিকরা অস্থায়ী কলোনি তৈরি করেন, যেখানে শ্রমিকরা বসবাস করেন। ঘরগুলো পলিথিনের ছাউনিসহ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে। বিশ্বাস ইটভাটার ১৬ বছরের আনিচুর দিনে ১২০ টাকা, বাবা কালাম হোসেন ৬২০ টাকা উপার্জন করেন। এই আয়েই পাঁচজনের পরিবার চলে। আনিচুর অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে, এখন কাজের প্রয়োজনেই স্কুল ত্যাগ করেছে।

 

মথুরাপুর এলাকার মেসার্স আসাদ-জাহাঙ্গীর ব্রিকস কলোনিতে ১১ বছরের জান্নাতি খাতুন পড়াশোনা ছাড়ে। মা-বাবা কাজের সময় ১৮ মাস বয়সী ভাইকে দেখাশোনা করতে হয় তাকে। অন্যান্য শিশু-কিশোরও একই পরিস্থিতিতে স্কুলে যায় না।

 

১৪ বছর বয়সের শিশুদের কাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ১৪-১৮ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের ঝুঁকিমুক্ত কাজের শর্তও মানা হচ্ছে না। প্রশাসন, শিশু একাডেমি এবং শ্রম দপ্তরের সচেতনতা কার্যক্রম কার্যকর হচ্ছে না।

 

মেসার্স আসাদ-জাহাঙ্গীর ব্রিকসের মালিক জানায়, শ্রমিকদের সঙ্গে কোনো চুক্তি নেই; সর্দারাই পারিশ্রমিক নির্ধারণ করেন। শিশুদের কাজ করানো মূলত পরিবারের আর্থিক প্রয়োজনের কারণে। শিশু-কিশোররা দিনে মা-বাবার কাজে সহায়তা করে।

 

ঝিনাইদহ জেলা শিশুবিষয়ক কর্মকর্তা ও পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি বলেন, ভাটার শ্রমিক ও শিশু-কিশোরদের স্বাস্থ্যঝুঁকি প্রচণ্ড। তাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ জরুরি। জেলা প্রশাসক জানান, আইনবহির্ভূত কোনো কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না।

 

Share this news as a Photo Card