১১:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডা. নিতাই হত্যায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৪ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড

এক যুগেরও বেশি সময় আগে ঢাকার বক্ষব্যাধি হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) নেতা ডা. নারায়ণ চন্দ্র দত্ত নিতাই হত্যা মামলায় পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া চার আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড ও একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

 

রোববার (১৭ আগস্ট) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ১০-এর বিচারক মো. রেজাউর করিম এ সাজা ঘোষণা করেন।

 

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন-নিতাইয়ের গাড়িচালক কামরুল হাসান অরুন, মিন্টু ওরফে বারগিরা মিন্টু ওরফে মাসুম মিন্টু, সাঈদ ব্যাপারী ওরফে আবু সাঈদ, বকুল মিয়া এবং সাইদ মিজি।

 

মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে আবু সাঈদ সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলারও আসামি।

 

আমৃত্যু দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- আবুল কালাম, সাইদুল, ফয়সাল ও প্যাদা মাসুম। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন রফিকুল ইসলাম।

 

পাশাপাশি এদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

 

ডা. নারায়ণ চন্দ্র দত্ত নিতাই ২০১২ সালের ২৩ আগস্ট রাতে মহাখালীতে বক্ষব্যাধি হাসপাতালের আবাসিক এলাকায় নিজের বাসায় খুন হন।

 

হত্যাকাণ্ডের রাতে দোতলা ওই বাড়িতে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিষদের সদস্য ডা. নিতাইয়ের সঙ্গে ছিলেন শুধু তার বৃদ্ধা মা। স্ত্রী লাকী চৌধুরী ছিলেন চট্টগ্রামে।

 

হত্যাকাণ্ডের পরদিন নিতাইয়ের বাবা বনানী থানায় মামলা দায়ের করেন। ২০১৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক গাজী আতাউর রহমান।

 

অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, চুরি করতে গিয়ে তারা ডা. নিতাই চন্দ্রকে হত্যা করেন। মিন্টু, রফিকুল, পিচ্চি কালাম, সাইদুল, প্যাদা মাসুদ ও ফয়সাল এই মামলায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

 

অভিযোগপত্র দাখিলের পর ২০১৩ সালের ২২ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ২৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। আসামিদের আত্মপক্ষ শুনানি, পাঁচজন আসামি নিজেদের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত আজ রায় দিলেন।

 

রায়ে রাতে ঘরে অনুপ্রবেশের দায়ে প্রত্যেককে ১৪ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক মাস করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

 

এছাড়া মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে চুরির দায়ে প্রত্যেককে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক মাস করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

 

কারাগারে থাকা ১০ আসামিকে এদিন আদালতে হাজির করা হয়। সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদের ফের কারাগারে পাঠানো হয়।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বাকৃবির শহীদ শামসুল হক হলে বৃক্ষরোপণ

প্রবাসে মৃত্যুর ২৭ দিন পর তথ্য প্রতিমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় মরদেহ ফিরল দেশে

07 November 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

ডা. নিতাই হত্যায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৪ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড

পোষ্টের সময় : ০৩:০৫:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৫

এক যুগেরও বেশি সময় আগে ঢাকার বক্ষব্যাধি হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) নেতা ডা. নারায়ণ চন্দ্র দত্ত নিতাই হত্যা মামলায় পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া চার আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড ও একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

 

রোববার (১৭ আগস্ট) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ১০-এর বিচারক মো. রেজাউর করিম এ সাজা ঘোষণা করেন।

 

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন-নিতাইয়ের গাড়িচালক কামরুল হাসান অরুন, মিন্টু ওরফে বারগিরা মিন্টু ওরফে মাসুম মিন্টু, সাঈদ ব্যাপারী ওরফে আবু সাঈদ, বকুল মিয়া এবং সাইদ মিজি।

 

মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে আবু সাঈদ সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলারও আসামি।

 

আমৃত্যু দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- আবুল কালাম, সাইদুল, ফয়সাল ও প্যাদা মাসুম। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন রফিকুল ইসলাম।

 

পাশাপাশি এদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

 

ডা. নারায়ণ চন্দ্র দত্ত নিতাই ২০১২ সালের ২৩ আগস্ট রাতে মহাখালীতে বক্ষব্যাধি হাসপাতালের আবাসিক এলাকায় নিজের বাসায় খুন হন।

 

হত্যাকাণ্ডের রাতে দোতলা ওই বাড়িতে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিষদের সদস্য ডা. নিতাইয়ের সঙ্গে ছিলেন শুধু তার বৃদ্ধা মা। স্ত্রী লাকী চৌধুরী ছিলেন চট্টগ্রামে।

 

হত্যাকাণ্ডের পরদিন নিতাইয়ের বাবা বনানী থানায় মামলা দায়ের করেন। ২০১৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক গাজী আতাউর রহমান।

 

অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, চুরি করতে গিয়ে তারা ডা. নিতাই চন্দ্রকে হত্যা করেন। মিন্টু, রফিকুল, পিচ্চি কালাম, সাইদুল, প্যাদা মাসুদ ও ফয়সাল এই মামলায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

 

অভিযোগপত্র দাখিলের পর ২০১৩ সালের ২২ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ২৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। আসামিদের আত্মপক্ষ শুনানি, পাঁচজন আসামি নিজেদের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত আজ রায় দিলেন।

 

রায়ে রাতে ঘরে অনুপ্রবেশের দায়ে প্রত্যেককে ১৪ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক মাস করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

 

এছাড়া মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে চুরির দায়ে প্রত্যেককে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক মাস করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

 

কারাগারে থাকা ১০ আসামিকে এদিন আদালতে হাজির করা হয়। সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদের ফের কারাগারে পাঠানো হয়।

Share this news as a Photo Card