ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকানাধীন কাটাবন মার্কেট ও গ্রীন সুপার মার্কেটে দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া বরাদ্দে অনিয়ম, অদক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছর বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে। খুব কম ভাড়ায় দোকান বরাদ্দ নিয়ে সেই দোকানই চুক্তি ভঙ্গ করে কয়েক গুণ বেশি দামে তৃতীয় পক্ষের কাছে ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাগারে ন্যূনতম আয় প্রবাহিত হলেও সিন্ডিকেটের হাতে চলে যাচ্ছে বিপুল অর্থ। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক তদারকি ও নীতিমালা পরিপালন হলে এই দুই মার্কেট থেকেই বছরে অন্তত ১৮ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব সংগ্রহ সম্ভব।
কাটাবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রয়েছে দুইতলা মার্কেটের ৩৫৩টি দোকান, যেগুলোর গড় আয়তন প্রায় ১৭০ বর্গফুট। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিটি দোকান থেকে মাসে মাত্র তিন থেকে চার হাজার টাকার মতো ভাড়া পায়। কিন্তু আশপাশের একই আকারের দোকানের বাজারভাড়া ৩৫–৫৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। অভিযোগ রয়েছে, মার্কেটের মালিক সমিতির প্রভাবশালী অংশ নিজেদের দখলে থাকা দোকানগুলো ৩০–৪৫ হাজার টাকায় ভাড়া দেয়, যদিও চুক্তিতে সাবলেট পুরোপুরি নিষিদ্ধ। একজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ দোকান নেওয়ার সীমা থাকলেও অনেকে ১৫–১৭টি দোকান নিয়ন্ত্রণ করছে বলেও দোকানদারদের ধারণা।
ফার্মগেটের গ্রীন সুপার মার্কেটেও একই ধরনের অনিয়ম চলমান। প্রতিষ্ঠার সময় ২১ বছরের জন্য ইজারা দেওয়া প্রতিষ্ঠানটির মেয়াদ ১৯৯৭ সালে শেষ হলেও পরবর্তীতে দোকানগুলো আবারও তৃতীয় পক্ষের হাতে চলে যায়। বিশ্ববিদ্যালয় এখানেও আয়তনভেদে দোকানপ্রতি মাত্র ১০–২০ হাজার টাকা পায়, যেখানে বাজারভাড়া ৪০ হাজার টাকার ওপরে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সংকটের অভিযোগ কমাতে নিজেদের সম্পদ দক্ষভাবে পরিচালনা করা জরুরি। ছাত্রনেতাদের অভিযোগ, প্রশাসনের সদিচ্ছার অভাব এবং কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির স্বার্থরক্ষা—এই অব্যবস্থাপনার মূল কারণ। এদিকে প্রশাসন জানিয়েছে, নতুন নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে এবং শিগগিরই ভাড়া বাড়ানোর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হবে।
স্টাফ রিপোর্টার 




















