০৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তেজগাঁও রাস্তায় ট্রাক কাভার্ডভ্যানে অচল নগরী

  • স্টাফ রিপোর্টার
  • পোষ্টের সময় : ১০:৩২:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৩০৮ ভিউ :

 

রাজধানীর তেজগাঁও ও আশপাশের এলাকাজুড়ে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও বাসের দখলে পড়ে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। এলাকার প্রায় ৭০ শতাংশ সড়ক এখন এ যানবাহনগুলোর অবৈধ পার্কিংয়ে পরিণত হয়েছে। ফলে প্রতিদিনই অফিসগামী মানুষ থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী ও রোগীরা ভয়াবহ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

অতীতে কেবল তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ডের সামনের রাস্তার দুপাশে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান রাখা হতো। কিন্তু ধীরে ধীরে সাতরাস্তা থেকে বিজয়সরণি ফ্লাইওভার সিগন্যাল পর্যন্ত পশ্চিমাংশের রাস্তাগুলো দখল হয়ে যায়। এখন মহাখালী বাস টার্মিনালকেন্দ্রিক বাসও ওই এলাকায় পার্ক করা হচ্ছে। সরেজমিন দেখা গেছে, সাতরাস্তা মোড় থেকে কারওয়ান বাজার রেলক্রসিং পর্যন্ত ছয় লেনের মধ্যে চার লেনই দখল করে রেখেছে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান। এমনকি ট্রেন চলাচলের সময় রেলক্রসিং বন্ধ হলে ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হয়, যার প্রভাব ফার্মগেট পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।

গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি অফিস, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকা সত্ত্বেও এলাকায় এমন অব্যবস্থাপনা তৈরি হয়েছে। পথচারীদের ফুটপাত ব্যবহারের সুযোগও প্রায় নেই, কারণ সেগুলোও যানবাহনের নিচে বা পাশে দখল হয়ে গেছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, সন্ধ্যার পর অনেক ফুটপাতে অসামাজিক কার্যকলাপও বেড়ে যায়।

চালকরা দাবি করেন, তারা প্রতিদিন ভাড়া দিয়ে সড়কে গাড়ি রাখেন। ট্রাক ড্রাইভারস ইউনিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়, টার্মিনালে জায়গা সীমিত হওয়ায় চালকদের কাছ থেকে কল্যাণ তহবিল বাবদ অর্থ নেওয়া হয়, যা দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তায় ব্যবহৃত হয়। তবে এভাবে সড়ক দখলকে ন্যায্যতা দেওয়ায় নাগরিকরা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হলো শহরের বাইরে আধুনিক ট্রাক-টার্মিনাল নির্মাণ করা। নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক আকতার মাহমুদ বলেন, যাত্রীবাহী বাসের মতোই মালবাহী ট্রাকের জন্যও প্রান্তসীমায় পার্কিং জোন থাকতে হবে। অন্যথায় মেগাসিটির স্বাভাবিক কার্যক্রম দীর্ঘমেয়াদে বাধাগ্রস্ত হবে।

ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, অবৈধ পার্কিংয়ের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে কবে নাগাদ এ উদ্যোগ কার্যকর হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। এদিকে প্রতিদিন তেজগাঁও এলাকায় চলাচলকারীরা যানজট ও অব্যবস্থাপনার জালে জর্জরিত হচ্ছেন।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

প্রয়োজনে বিমান টিকিট দেব, তবুও দেশে আসুন: হাসিনাকে তথ্য প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় হিফজ প্রতিযোগিতায় দেশসেরা দুই হাফেজ, নকলায় রাজকীয় সংবর্ধনা

06 November 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

তেজগাঁও রাস্তায় ট্রাক কাভার্ডভ্যানে অচল নগরী

পোষ্টের সময় : ১০:৩২:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

 

রাজধানীর তেজগাঁও ও আশপাশের এলাকাজুড়ে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও বাসের দখলে পড়ে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। এলাকার প্রায় ৭০ শতাংশ সড়ক এখন এ যানবাহনগুলোর অবৈধ পার্কিংয়ে পরিণত হয়েছে। ফলে প্রতিদিনই অফিসগামী মানুষ থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী ও রোগীরা ভয়াবহ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

অতীতে কেবল তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ডের সামনের রাস্তার দুপাশে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান রাখা হতো। কিন্তু ধীরে ধীরে সাতরাস্তা থেকে বিজয়সরণি ফ্লাইওভার সিগন্যাল পর্যন্ত পশ্চিমাংশের রাস্তাগুলো দখল হয়ে যায়। এখন মহাখালী বাস টার্মিনালকেন্দ্রিক বাসও ওই এলাকায় পার্ক করা হচ্ছে। সরেজমিন দেখা গেছে, সাতরাস্তা মোড় থেকে কারওয়ান বাজার রেলক্রসিং পর্যন্ত ছয় লেনের মধ্যে চার লেনই দখল করে রেখেছে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান। এমনকি ট্রেন চলাচলের সময় রেলক্রসিং বন্ধ হলে ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হয়, যার প্রভাব ফার্মগেট পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।

গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি অফিস, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকা সত্ত্বেও এলাকায় এমন অব্যবস্থাপনা তৈরি হয়েছে। পথচারীদের ফুটপাত ব্যবহারের সুযোগও প্রায় নেই, কারণ সেগুলোও যানবাহনের নিচে বা পাশে দখল হয়ে গেছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, সন্ধ্যার পর অনেক ফুটপাতে অসামাজিক কার্যকলাপও বেড়ে যায়।

চালকরা দাবি করেন, তারা প্রতিদিন ভাড়া দিয়ে সড়কে গাড়ি রাখেন। ট্রাক ড্রাইভারস ইউনিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়, টার্মিনালে জায়গা সীমিত হওয়ায় চালকদের কাছ থেকে কল্যাণ তহবিল বাবদ অর্থ নেওয়া হয়, যা দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তায় ব্যবহৃত হয়। তবে এভাবে সড়ক দখলকে ন্যায্যতা দেওয়ায় নাগরিকরা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হলো শহরের বাইরে আধুনিক ট্রাক-টার্মিনাল নির্মাণ করা। নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক আকতার মাহমুদ বলেন, যাত্রীবাহী বাসের মতোই মালবাহী ট্রাকের জন্যও প্রান্তসীমায় পার্কিং জোন থাকতে হবে। অন্যথায় মেগাসিটির স্বাভাবিক কার্যক্রম দীর্ঘমেয়াদে বাধাগ্রস্ত হবে।

ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, অবৈধ পার্কিংয়ের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে কবে নাগাদ এ উদ্যোগ কার্যকর হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। এদিকে প্রতিদিন তেজগাঁও এলাকায় চলাচলকারীরা যানজট ও অব্যবস্থাপনার জালে জর্জরিত হচ্ছেন।

Share this news as a Photo Card