০২:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধনবাড়ীতে ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে অত্যাধুনিক টিস্যু কালচার ল্যাব

 

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী হর্টিকালচার সেন্টারে ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে অত্যাধুনিক টিস্যু কালচার ল্যাব। এ ল্যাবকে ঘিরে দেশের উত্তর-মধ্য অঞ্চলে কৃষিতে দেখা দিয়েছে নতুন সম্ভাবনা। আনারসের নতুন জাত ফিলিফাইনের এমডি- ২, জিনাইন কলা, সবজিসহ বিভিন্ন ফল ফসলের গবেষণা ও নতুন নতুন উদ্ভাবনের যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে এ সেন্টারটি।

 

উদ্যানতত্ত্ববিদদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশের কৃষি এখন আর শুধু হাল-জমি-ধানের পরিচিত পরিসরে আটকে নেই; কৃষি প্রবেশ করতে যাচ্ছে জীবপ্রযুক্তি, গবেষণা ও আধুনিক বিজ্ঞানের এক অভূতপূর্ব অভিযাত্রায়। পরিবর্তিত সময়ের এই কৃষি-বিপ্লবের মানচিত্রে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী হর্টিকালচার সেন্টার ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে এক নতুন প্রতীক—যেখানে মাটির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে মাইক্রোস্কোপ, চারার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে গবেষণাগার, আর কৃষকের স্বপ্নের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে প্রযুক্তির নির্ভরতা।

 

ধনবাড়ি হর্টিকালচার সেন্টার সূত্রে জানা গেছে, সরকারের “টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি কাম হর্টিকালচার সেন্টার স্থাপন ও উন্নয়ন প্রকল্প”-এর আওতায় ধনবাড়ীতে নির্মিত অত্যাধুনিক টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি স্থাপন হচ্ছে। মধুপুর-ধনবাড়ী-ঘাটাইলসহ বৃহত্তর টাঙ্গাইল অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিকে আমূল বদলে দেওয়ার সম্ভাবনাময় কৃষি-প্রযুক্তির কেন্দ্রবিন্দু। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হলে এই ল্যাবরেটরি উত্তর-মধ্য বাংলাদেশের কৃষিতে নতুন যুগের সূচনা করবে।

সারাদেশে মাত্র কয়েকটি ল্যাব প্রাথমিকভাবে হচ্ছে।তারমধ্যে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী অন্যতম।

 

২০২২-২৩ অর্থবছরে শুরু হওয়া পাঁচ বছর মেয়াদি এ প্রকল্প চলবে ২০২৭-২৮ অর্থবছর পর্যন্ত। প্রকল্পের আওতায় দেশের নির্বাচিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ হর্টিকালচার সেন্টারে আধুনিক টিস্যু কালচার ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। এর মধ্যে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী, সাভারের রাজালাখ এবং বান্দরবানের বালাঘাটা হর্টিকালচার সেন্টার বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি কুমিল্লা ও ভোলার চরফ্যাশনেও শিগগিরই নতুন ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ রয়েছে।

 

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধনবাড়ী কেন্দ্রটি ভৌগোলিক ও কৃষি সম্ভাবনার দিক থেকে বিশেষ কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে। ইতোমধ্যে দক্ষ টিস্যু কালচারিস্ট নিয়োগ সম্পন্ন হওয়ায় উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতি আরও জোরদার হয়েছে।

 

মধুপুরের আনারস বাংলাদেশের ঐতিহ্যের অংশ। সেই ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে ধনবাড়ীর ল্যাবে উৎপাদিত হবে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত এমডি-২ জাতের আনারসের চারা।

এমডি-২ জাতের আনারস তার মিষ্টতা, আকর্ষণীয় সোনালি রং, দীর্ঘ সংরক্ষণক্ষমতা ও রপ্তানিযোগ্য মানের জন্য বিশ্ববাজারে অত্যন্ত জনপ্রিয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্থানীয় কৃষকদের হাতে যদি সুলভ মূল্যে এই উন্নত চারা পৌঁছে দেওয়া যায়, তবে মধুপুরের আনারস শুধু দেশীয় ঐতিহ্য নয়—রপ্তানিমুখী কৃষিপণ্যের শক্তিশালী ব্র্যান্ডেও পরিণত হতে পারে।

 

জারবেড়া ও অর্কিডে ‘ফ্লোরিকালচার জোন’ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। উন্নত জাতের পেঁপে, সবজি ও বহুমুখী কৃষির সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে এ সেন্টারটি।

বিভিন্ন ফসলের রোগজীবাণু মুক্ত চারা ও ফসলের নির্ভরতা সৃষ্টি হবে এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

 

ধনবাড়ী হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যানতত্ত্ববিদ কৃষিবিদ রাসেল পারভেজ তমাল বলেন,“কৃষির আধুনিকায়নের এই যুগে রোগমুক্ত উন্নত জাতের চারা সরবরাহই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ধনবাড়ীর টিস্যু কালচার ল্যাব এ অঞ্চলের কৃষকদের জন্য নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তিনির্ভর চারা উৎপাদনের কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এতে কৃষকের উৎপাদনশীলতা বাড়বে, প্রতারণা কমবে এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নে নতুন গতি আসবে।”এ টিস্যু কালচার সেন্টার হবে দেশের উত্তর ও মধ্যে অঞ্চলের সম্ভাবনা নতুন দ্বার।

 

এ ল্যাবটির উৎপাদন শুরু হলে দুর্লভ ও দুষ্প্রাপ্য জাতের বিভিন্ন ফসল ও জাতের চারা উৎপাদন হবে। উৎপাদিত হবে রোগমুক্ত নতুন নতুন চারা। মাঠ পর্যায়ে চাষী কৃষকরা পাবে এর সুফল। মাঠে মাঠে শোভা নামী দামী ফসলের জাত। এ ফসল চাষ সমৃদ্ধ হলে দেশের সীমা ছাড়িয়ে বিদেশেও রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হবে। কৃষককের উপকারের পাশাপাশি দেশও লাভ করবে বৈদেশিক মুদ্রা এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

প্রয়োজনে বিমান টিকিট দেব, তবুও দেশে আসুন: হাসিনাকে তথ্য প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় হিফজ প্রতিযোগিতায় দেশসেরা দুই হাফেজ, নকলায় রাজকীয় সংবর্ধনা

06 November 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

ধনবাড়ীতে ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে অত্যাধুনিক টিস্যু কালচার ল্যাব

পোষ্টের সময় : ০৭:৫৭:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

 

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী হর্টিকালচার সেন্টারে ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে অত্যাধুনিক টিস্যু কালচার ল্যাব। এ ল্যাবকে ঘিরে দেশের উত্তর-মধ্য অঞ্চলে কৃষিতে দেখা দিয়েছে নতুন সম্ভাবনা। আনারসের নতুন জাত ফিলিফাইনের এমডি- ২, জিনাইন কলা, সবজিসহ বিভিন্ন ফল ফসলের গবেষণা ও নতুন নতুন উদ্ভাবনের যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে এ সেন্টারটি।

 

উদ্যানতত্ত্ববিদদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশের কৃষি এখন আর শুধু হাল-জমি-ধানের পরিচিত পরিসরে আটকে নেই; কৃষি প্রবেশ করতে যাচ্ছে জীবপ্রযুক্তি, গবেষণা ও আধুনিক বিজ্ঞানের এক অভূতপূর্ব অভিযাত্রায়। পরিবর্তিত সময়ের এই কৃষি-বিপ্লবের মানচিত্রে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী হর্টিকালচার সেন্টার ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে এক নতুন প্রতীক—যেখানে মাটির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে মাইক্রোস্কোপ, চারার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে গবেষণাগার, আর কৃষকের স্বপ্নের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে প্রযুক্তির নির্ভরতা।

 

ধনবাড়ি হর্টিকালচার সেন্টার সূত্রে জানা গেছে, সরকারের “টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি কাম হর্টিকালচার সেন্টার স্থাপন ও উন্নয়ন প্রকল্প”-এর আওতায় ধনবাড়ীতে নির্মিত অত্যাধুনিক টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি স্থাপন হচ্ছে। মধুপুর-ধনবাড়ী-ঘাটাইলসহ বৃহত্তর টাঙ্গাইল অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিকে আমূল বদলে দেওয়ার সম্ভাবনাময় কৃষি-প্রযুক্তির কেন্দ্রবিন্দু। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হলে এই ল্যাবরেটরি উত্তর-মধ্য বাংলাদেশের কৃষিতে নতুন যুগের সূচনা করবে।

সারাদেশে মাত্র কয়েকটি ল্যাব প্রাথমিকভাবে হচ্ছে।তারমধ্যে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী অন্যতম।

 

২০২২-২৩ অর্থবছরে শুরু হওয়া পাঁচ বছর মেয়াদি এ প্রকল্প চলবে ২০২৭-২৮ অর্থবছর পর্যন্ত। প্রকল্পের আওতায় দেশের নির্বাচিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ হর্টিকালচার সেন্টারে আধুনিক টিস্যু কালচার ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। এর মধ্যে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী, সাভারের রাজালাখ এবং বান্দরবানের বালাঘাটা হর্টিকালচার সেন্টার বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি কুমিল্লা ও ভোলার চরফ্যাশনেও শিগগিরই নতুন ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ রয়েছে।

 

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধনবাড়ী কেন্দ্রটি ভৌগোলিক ও কৃষি সম্ভাবনার দিক থেকে বিশেষ কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে। ইতোমধ্যে দক্ষ টিস্যু কালচারিস্ট নিয়োগ সম্পন্ন হওয়ায় উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতি আরও জোরদার হয়েছে।

 

মধুপুরের আনারস বাংলাদেশের ঐতিহ্যের অংশ। সেই ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে ধনবাড়ীর ল্যাবে উৎপাদিত হবে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত এমডি-২ জাতের আনারসের চারা।

এমডি-২ জাতের আনারস তার মিষ্টতা, আকর্ষণীয় সোনালি রং, দীর্ঘ সংরক্ষণক্ষমতা ও রপ্তানিযোগ্য মানের জন্য বিশ্ববাজারে অত্যন্ত জনপ্রিয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্থানীয় কৃষকদের হাতে যদি সুলভ মূল্যে এই উন্নত চারা পৌঁছে দেওয়া যায়, তবে মধুপুরের আনারস শুধু দেশীয় ঐতিহ্য নয়—রপ্তানিমুখী কৃষিপণ্যের শক্তিশালী ব্র্যান্ডেও পরিণত হতে পারে।

 

জারবেড়া ও অর্কিডে ‘ফ্লোরিকালচার জোন’ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। উন্নত জাতের পেঁপে, সবজি ও বহুমুখী কৃষির সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে এ সেন্টারটি।

বিভিন্ন ফসলের রোগজীবাণু মুক্ত চারা ও ফসলের নির্ভরতা সৃষ্টি হবে এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

 

ধনবাড়ী হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যানতত্ত্ববিদ কৃষিবিদ রাসেল পারভেজ তমাল বলেন,“কৃষির আধুনিকায়নের এই যুগে রোগমুক্ত উন্নত জাতের চারা সরবরাহই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ধনবাড়ীর টিস্যু কালচার ল্যাব এ অঞ্চলের কৃষকদের জন্য নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তিনির্ভর চারা উৎপাদনের কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এতে কৃষকের উৎপাদনশীলতা বাড়বে, প্রতারণা কমবে এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নে নতুন গতি আসবে।”এ টিস্যু কালচার সেন্টার হবে দেশের উত্তর ও মধ্যে অঞ্চলের সম্ভাবনা নতুন দ্বার।

 

এ ল্যাবটির উৎপাদন শুরু হলে দুর্লভ ও দুষ্প্রাপ্য জাতের বিভিন্ন ফসল ও জাতের চারা উৎপাদন হবে। উৎপাদিত হবে রোগমুক্ত নতুন নতুন চারা। মাঠ পর্যায়ে চাষী কৃষকরা পাবে এর সুফল। মাঠে মাঠে শোভা নামী দামী ফসলের জাত। এ ফসল চাষ সমৃদ্ধ হলে দেশের সীমা ছাড়িয়ে বিদেশেও রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হবে। কৃষককের উপকারের পাশাপাশি দেশও লাভ করবে বৈদেশিক মুদ্রা এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

Share this news as a Photo Card