ধলাই নদীর প্রাণ ফেরাতে নদীতে নামলেন নেত্রকোনার ডিসি। শনবিার সকালে পৌরসভা এবং স্থানীয়দের সঙ্গে জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামানও নেমেছেন নদীর কচুরিপানা পরিষ্কারের কাজে।
শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে নেত্রকোনা পৌরসভার উদ্যোগে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সহযোগিতায় নদীর কচুরিপানা পরিষ্কার শুরু হয়।
নদীটির পুনর্জাগরণে এই সম্মিলিত প্রয়াস শুধু পরিবেশ নয়, বরং জনজীবন, কৃষিকাজ ও স্থানীয় অর্থনীতির ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নেত্রকোনা জেলা শহরের বুক চিরে প্রবাহিত এক সময়ের খরস্রোতা ধলাই নদী এখন আর আগের মতো নেই। প্রায় দুই দশক ধরে নদীটি কচুরিপানায় ভরে গিয়ে হারিয়ে ফেলেছিল তার স্বাভাবিক গতি ও সৌন্দর্য।
এ কারণে আশপাশের মানুষ নদীর পানি ব্যবহার করতে পারছিলেন না। যারা খুব প্রয়োজনে নদীর পানি ব্যবহার করেছেন তারাই আক্রান্ত হয়েছেন নানান চর্মরোগে। তবে এবার নদীটিকে তার হারানো প্রাণ ফিরিয়ে দিতে শুরু হয়েছে কচুরিপানা পরিষ্কার অভিযান।
ধলাই নদীর কচুরিপানা পরিষ্কার করতে গিয়ে নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেন, সুদীর্ঘ সময় ধরে উদ্যোগের অভাবে পানি প্রবাহ হ্রাস, মৎস্য বৈচিত্রের ঘাটতির পাশাপাশি সংকীর্ণ হয়ে আসা ধলাই নদীর প্রাণ ফেরানোর জন্যই পৌরসভা এবং স্থানীয়দের নিয়ে এই অভিযান।
তিনি বলেন, নদীটি পরিষ্কার হলে আশপাশের মানুষজন নদীর পানি ব্যবহার করতে পারবেন। কচুরিপানা অপসারণ, পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণ এবং নদী পাড়ের আগাছা পরিষ্কার করার মধ্যে দিয়ে এর গতি প্রবাহ স্বাভাবিক করা হবে।
নদীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কাজে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে অংশ নেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আশরাফ উদ্দিন খান, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এসএম মনিরুজ্জামান দুদু জেলা বিএনপি নেতা ইসলাম উদ্দিন খান চঞ্চল।
কচুরিপানা পরিষ্কার অভিযানে নেত্রকোনা পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. আরিফুল ইসলাম সরদার বলেন, ধলাই নদীর প্রাণ ফিরিয়ে দিয়ে এবং দূষণমুক্ত করতেই পরিষ্কার অভিযান শুরু হয়েছে। পৌর নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়ন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজ প্রকৃতি ও পরিষ্কার নদী রক্ষায় পৌরসভা সবসময় জনগণের পাশে আছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এ উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে নতুন আশার জন্ম দিয়েছে।
বৃহষ্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) নেত্রকোনা জেলা বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন খান রণির উদ্যেগে স্থানীয় যুব সমাজকে নিয়ে নদী পরিষ্কার অভিযানে নামেন স্থানীয়রা। এর আগে বহুবার পৌরসভা থেকে নদীটি পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা শেষ করা হয়নি।
স্টাফ রিপোর্টার 




















