নরসিংদীর সদর উপজেলার আলোকবালী ইউনিয়নের মুরাদনগর এলাকায় ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় প্রাণ হারালেন যুবদল নেতা সাদেক মিয়া। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে দুই পক্ষের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে উত্তেজনা চরমে পৌঁছালে এই সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাদেক মিয়ার মৃত্যু হয়। এসময় অন্তত ১০ জন আহত হন, যাদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় পাঁচজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলছিল। আধিপত্য বিস্তার এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোকে কেন্দ্র করেই মূলত এ সহিংসতার সূত্রপাত। সংঘর্ষ চলাকালীন সময় গুলিবর্ষণ ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ ঘটনায় গ্রামজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কারা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত তা নিশ্চিত করা যায়নি। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এদিকে নিহত যুবদল নেতা সাদেক মিয়ার মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দলের স্থানীয় নেতারা দাবি করেছেন, এ হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত এবং এর সঙ্গে প্রভাবশালী মহল জড়িত থাকতে পারে। তারা দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এলাকার সাধারণ মানুষও প্রশাসনের কাছে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জোর দাবি তুলেছেন। স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই বিরোধ মীমাংসা না হওয়ায় বারবার সহিংসতা ঘটছে এবং নিরীহ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে।
বর্তমানে গোটা এলাকায় শোক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিহতের পরিবারে চলছে আহাজারি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, অপরাধীরা যেই হোক না কেন, দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
স্টাফ রিপোর্টার 




















