আন্তর্জাতিক নারী দিবস–২০২৬ উপলক্ষে নারী কৃষকদের অবদান, বৈষম্য ও সম্ভাবনার বাস্তবতা তুলে ধরে ময়মনসিংহে আলোচনা সভা, পণ্য প্রদর্শনী ও সম্মাননা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (৮ মার্চ) নগরীর ব্রহ্মপুত্র চর এলাকার জয়নুল উদ্যান-এ “নারী কৃষকের ভূমিকা, পল্লী জীবন এবং নারী কৃষক সমস্যার উত্তরণের পথ” শীর্ষক এ আয়োজন করে অন্যচিত্র ফাউন্ডেশন। এতে সহযোগিতা করে খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক–খানি বাংলাদেশ।
অনুষ্ঠানে নারী কৃষক, সরকারি প্রতিনিধি, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, স্থানীয় সমাজের প্রতিনিধিসহ প্রায় শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
দিনব্যাপী আয়োজনে নারী কৃষকেরা শাকসবজি, ফল, ডাল, মসলা, ধান, ঘরে তৈরি খাদ্যপণ্য ও কারুশিল্পসহ নিজস্ব উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির সুযোগ পান। স্থানীয় ক্রেতা ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের পণ্যের পরিচিতি বৃদ্ধি ও বাজারসংযোগের সুযোগ তৈরি হয়। পাশাপাশি কৃষকেরা নিজেদের অভিজ্ঞতা, উৎপাদন প্রক্রিয়া ও সংগ্রামের গল্পও তুলে ধরেন, যা উপস্থিতদের কাছে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, এ বছরের আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রতিপাদ্য “আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার; সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার” এবং আন্তর্জাতিক থিম “Give to Gain”–দুটিই নারী কৃষকের বাস্তবতার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
বক্তারা উল্লেখ করেন, দেশের কৃষি অর্থনীতিতে নারী কৃষকের অবদান অপরিসীম হলেও তাদের শ্রমের যথাযথ স্বীকৃতি, ভূমির মালিকানা, কৃষিঋণ, প্রণোদনা ও বাজারসংযোগ এখনো কাঠামোগত বৈষম্যের কারণে সীমিত। বর্তমানে মাত্র চার থেকে পাঁচ শতাংশ নারী কৃষকের হাতে কার্যকর ভূমির মালিকানা রয়েছে। ফলে তারা কৃষিঋণ, ভর্তুকি ও সরকারি প্রণোদনা পাওয়ার ক্ষেত্রে নিয়মিত বাধার সম্মুখীন হন।
এছাড়া ঘরের কাজের পাশাপাশি ক্ষেতেও সমান শ্রম দিলেও তাদের কাজের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নেই। ফলে মজুরি সমতা, সামাজিক মর্যাদা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নারীদের অবস্থান এখনও দুর্বল।
মেলায় অংশগ্রহণকারী নারী কৃষকেরা জানান, “আমাদের কাজের আর্থিক মূল্যও নেই, পারিবারিক স্বীকৃতিও নেই। তবু আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তবে আজকের এই আয়োজন আমাদের মনে নতুন আশা জাগিয়েছে–সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলালে অবশ্যই পরিবর্তন আসবে।”
সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, দেশের খাদ্যব্যবস্থাকে ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নারী-বান্ধব করতে একটি খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়ন সময়ের দাবি। প্রতিটি নাগরিকের খাদ্য অধিকার আইনগতভাবে সুরক্ষিত হলে কৃষির সঙ্গে যুক্ত নারীরাও উৎপাদন, বাজার ও নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় ন্যায্য সুযোগ পাবেন।
অনুষ্ঠানের শেষে স্থানীয় কৃষিক্ষেত্রে দীর্ঘদিন অবদান রাখা তিনজন নারী কৃষককে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। আয়োজকদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ নারীদের দৃশ্যমানতা বাড়ায়, আত্মবিশ্বাস জোরদার করে এবং পল্লী অর্থনীতিতে তাদের কেন্দ্রীয় ভূমিকা আরও শক্তিশালী করে।
শাহ্ নাফিউল্লাহ সৈকত 






















