ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হাতে আসায় শূন্য থাকা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে নতুন নিয়োগকে কেন্দ্র করে সচিবালয় ও প্রশাসনের শীর্ষ মহলে তোলপাড় চলছে। নির্বাচনের সময়ে জেলা ও উপজেলায় কর্মকর্তাদের পদায়ন ও রদবদলে এই পদটির গুরুত্ব অপরিসীম, তাই রাজনৈতিক মহলেও রয়েছে তৎপরতা। জানা গেছে, আগামী রোববার বা সোমবারের মধ্যে নতুন সচিব নিয়োগের প্রজ্ঞাপন আসতে পারে।
মন্ত্রণালয়ের সূত্রের খবর, কিছু রাজনৈতিক দল তাদের পছন্দের কর্মকর্তাকে পদে বসানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিজ উদ্যোগে পদে বসার তদবির করছেন। আলোচনায় বর্তমানে ভূমি সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ, খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তা এবং আরও পাঁচ থেকে ছয়জনের নাম উঠে এসেছে।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা বলেন, রাজনৈতিক প্রভাব থেকে এ নিয়োগ মুক্ত রাখা উচিত। তাঁদের মতে, দক্ষ, যোগ্য ও স্বচ্ছ কর্মকর্তাকে এই পদে বসানো জরুরি, যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো প্রশ্ন দেখা না দেয়।
গত বছর গণ–অভ্যুত্থানের পর তৎকালীন সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরীকে সরানো হয়। এরপর দুই বছরের চুক্তিতে মোখলেসুর রহমান জনপ্রশাসন সচিব হন, কিন্তু ১৩ মাস পর পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসেবে বদলি হয়ে পদটি খালি থাকে। বর্তমানে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন অতিরিক্ত সচিব আবু শাহীন আসাদুজ্জামান।
আলোচনায় থাকা অন্য কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনিও, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদী। তাঁরা সবাই প্রশাসন ক্যাডারের অভিজ্ঞ কর্মকর্তা।
সাবেক সচিব একে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেন, নতুন জনপ্রশাসন সচিবকে অবশ্যই অরাজনৈতিক ও পেশাদার হতে হবে। মন্ত্রণালয়কে কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে হবে এবং জেলা-উপজেলায় সৎ ও যোগ্য কর্মকর্তাদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য এমন একজনকে নিয়োগ দেওয়া জরুরি।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়া মন্তব্য করেছেন, প্রশাসন দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। যদি দ্রুত দক্ষ ও নিরপেক্ষ কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া না হয়, তবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।
স্টাফ রিপোর্টার 






















