পান থেকে চুন খসলেই কথায় কথায় মামলা করে হয়রানি করাই যেন পেশা চল্লিশোর্ধ নাজিম উদ্দিনের। তার মামলাবাজিতে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। এতে নিঃস্ব এলাকার বেশ কয়েকটি পরিবার। তবে নাজিম উদ্দিনের অত্যাচার রেহাই পেতে এবার ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদে করে বিচার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার জাটিয়া ইউনিয়নের ফানুর গ্রামে। নাজিম উদ্দিন ওই গ্রামের মৃত জসিম উদ্দিনের ছেলে।
গত সোমবার(২৭ এপ্রিল) ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে সামাজিকভাবে এক আলোচনা সভা শেষে এসব কথা জানান। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ভোক্তভোগী হারুন অর রশিদ নামে একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন।
ভোক্তভোগী বাসিন্দা দিনমুজুর মো. শামছুল হক(৫৫) বলেন, আমার নামে অহেতুক ১০ মামাল করেছে নাজিম উদ্দিন। তার মামলার কারণে আমি এখন নিঃস্ব। এলাকার আরও অনেক মানুষের নামে সে অযথা হয়রানি মূলক মামলা করেছে। তার সাথে মতের অমিল কিংবা পান থেকে চুন খসলেই মামলা করে বসে। এতে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। আমরা নামিজ উদ্দিনের এই মামলাবাজি থেকে রক্ষা পেতে চাই।শান্তিতে জীবনযাপন করতে চাই।
একই গ্রামের গ্রামের মুদি দোকানি হারুন অর রশিদ ও আবুল হাশেম(৮০) বলেন,’নাজিম উদ্দিনের সাথে কোন দ্বন্দ্ব নেইনআমাদের,জমি নিয়ে কোন বিরোধও নেই। তার অত্যাচারের বিরুদ্ধে কথা বলায় সে আমাদের নামেও মামলা করে বসেছে। কিন্তু আমাদের প্রশ্ন-যেখানে সাধারণ মানুষ ন্যায্য বিচার পেতেও নানা কাঠখড়ি পোহাতে সেখানে নাজিম উদ্দিন কীভাবে এতো এতো মিথ্যা মামলা দিয়ে এলাকার লোকজনকে হয়রানি করে? আমারা এ ঘটনার বিচার চাই।
এলাকার মো. আব্দুল মান্নান(৯১), আব্দুল গফুর(৯০) ও আঃ রহিম(৬৫)সহ অন্ত্যত আরও ২০ থেকে ৩০ বয়স্ক লোকজন জানান,নাজিম উদ্দিন ফানুর গ্রামের অনেক মানুষের নামে আনুমানিক ২০টির বেশি মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। আমরা এর প্রতিকার চাই।
এবিষয়ে জানতে নাজিম উদ্দিনের বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও সানজিদা রহমান বলেন,সমাজে এমন কিছু মামলাবাজ লোক থাকে সত্য। কিন্তু মামলা সংক্রান্ত বিষয়টি আদালতের এক্তিয়ার, এখানে আমার তেমন কিছু করার নেই। তবুও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি 




















