০৭:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পার্বত্য চুক্তির ২৮ বছরে হতাশা-অশান্তির অভিযোগ

 

আজ মঙ্গলবার ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির ২৮ বছর পূর্ণ হলো। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর সরকারের সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) এই চুক্তিতে সই করেছিল। দীর্ঘ দিন ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাত থামিয়ে পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি, রাজনৈতিক স্থিতি এবং উন্নয়ন নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই এ চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু দুই যুগ পেরিয়ে গেলেও মূল প্রতিশ্রুতি ও গুরুত্বপূর্ণ ধারা বাস্তবায়িত না হওয়ায় পাহাড়ে আজও শান্তির পরশ ফিরে আসেনি—বিপরীতে বেড়ে গেছে ক্ষোভ, হতাশা এবং পারস্পরিক অবিশ্বাস।

 

চুক্তির বার্ষিকী উপলক্ষে জেএসএস তাদের বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে, চুক্তি স্বাক্ষরের পর পাঁচটি রাজনৈতিক সরকার এবং দুই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এলেও তারা কেউই চুক্তির বাস্তবায়নে যথাযথ রাজনৈতিক সদিচ্ছা দেখায়নি। এমনকি চুক্তি স্বাক্ষরকারী আওয়ামী লীগও দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও মৌলিক বিষয়গুলোর অগ্রগতি নিশ্চিত করেনি। তারা শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়ে সময় পার করেছে, ফলে চুক্তির দুই-তৃতীয়াংশ ধারা আজও কাগজেই রয়ে গেছে।

 

অবাস্তবায়িত মৌলিক বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে—

 

পার্বত্য অঞ্চলের বিশেষ জাতিগোষ্ঠীর ঐতিহ্য ও পরিচয় রক্ষায় আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ

 

পার্বত্য চট্টগ্রামের অনন্য সাংস্কৃতিক ও ভূরাজনৈতিক চরিত্র অনুযায়ী বিশেষ শাসন কাঠামোকে কার্যকর করা

 

ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্য নিয়ে গঠিত কমিশনের কাজ বাস্তবায়ন এবং ভূমি সমস্যা সমাধানের পথ তৈরি

 

আঞ্চলিক পরিষদ ও জেলা পরিষদের ক্ষমতা হস্তান্তরকে কার্যকর করা

 

পাহাড়ের নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা

 

জেএসএসের মতে, এসব মৌলিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত না হওয়ায় সংঘাতের পরিবেশ আবারও ঘনীভূত হচ্ছে, এবং প্রশাসন ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভরসার সংকট বাড়ছে।

 

এদিকে কিছু মহল থেকে দাবি উঠেছে যে, সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ধারা থাকায় পার্বত্য চুক্তিকে হয় যথাযথ সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে পুনর্বিবেচনা করতে হবে, না হলে চুক্তিটি বাতিল করতে হবে।

 

২৮ বছর পরও পাহাড়ে শান্তি ও আস্থার জায়গায় অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ দখল করে আছে, এমনটাই মন্তব্য করেছেন স্থানীয় অধিকারকর্মী ও পর্যবেক্ষকরা।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
অধিক পঠিত

জাতীয় হিফজ প্রতিযোগিতায় দেশসেরা দুই হাফেজ, নকলায় রাজকীয় সংবর্ধনা

হালুয়াঘাটে ইয়াবাসহ আটক ২

04 November 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.dailybexpress.com

পার্বত্য চুক্তির ২৮ বছরে হতাশা-অশান্তির অভিযোগ

পোষ্টের সময় : ০৯:৫৩:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫

 

আজ মঙ্গলবার ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির ২৮ বছর পূর্ণ হলো। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর সরকারের সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) এই চুক্তিতে সই করেছিল। দীর্ঘ দিন ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাত থামিয়ে পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি, রাজনৈতিক স্থিতি এবং উন্নয়ন নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই এ চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু দুই যুগ পেরিয়ে গেলেও মূল প্রতিশ্রুতি ও গুরুত্বপূর্ণ ধারা বাস্তবায়িত না হওয়ায় পাহাড়ে আজও শান্তির পরশ ফিরে আসেনি—বিপরীতে বেড়ে গেছে ক্ষোভ, হতাশা এবং পারস্পরিক অবিশ্বাস।

 

চুক্তির বার্ষিকী উপলক্ষে জেএসএস তাদের বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে, চুক্তি স্বাক্ষরের পর পাঁচটি রাজনৈতিক সরকার এবং দুই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এলেও তারা কেউই চুক্তির বাস্তবায়নে যথাযথ রাজনৈতিক সদিচ্ছা দেখায়নি। এমনকি চুক্তি স্বাক্ষরকারী আওয়ামী লীগও দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও মৌলিক বিষয়গুলোর অগ্রগতি নিশ্চিত করেনি। তারা শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়ে সময় পার করেছে, ফলে চুক্তির দুই-তৃতীয়াংশ ধারা আজও কাগজেই রয়ে গেছে।

 

অবাস্তবায়িত মৌলিক বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে—

 

পার্বত্য অঞ্চলের বিশেষ জাতিগোষ্ঠীর ঐতিহ্য ও পরিচয় রক্ষায় আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ

 

পার্বত্য চট্টগ্রামের অনন্য সাংস্কৃতিক ও ভূরাজনৈতিক চরিত্র অনুযায়ী বিশেষ শাসন কাঠামোকে কার্যকর করা

 

ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্য নিয়ে গঠিত কমিশনের কাজ বাস্তবায়ন এবং ভূমি সমস্যা সমাধানের পথ তৈরি

 

আঞ্চলিক পরিষদ ও জেলা পরিষদের ক্ষমতা হস্তান্তরকে কার্যকর করা

 

পাহাড়ের নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা

 

জেএসএসের মতে, এসব মৌলিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত না হওয়ায় সংঘাতের পরিবেশ আবারও ঘনীভূত হচ্ছে, এবং প্রশাসন ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভরসার সংকট বাড়ছে।

 

এদিকে কিছু মহল থেকে দাবি উঠেছে যে, সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ধারা থাকায় পার্বত্য চুক্তিকে হয় যথাযথ সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে পুনর্বিবেচনা করতে হবে, না হলে চুক্তিটি বাতিল করতে হবে।

 

২৮ বছর পরও পাহাড়ে শান্তি ও আস্থার জায়গায় অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ দখল করে আছে, এমনটাই মন্তব্য করেছেন স্থানীয় অধিকারকর্মী ও পর্যবেক্ষকরা।

 

Share this news as a Photo Card