সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার একটি ভিডিও সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে, যা ঘিরে নানামুখী আলোচনা ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। ভিডিওটি দেখে অনেকেই মনে করছেন, এটি প্রধান উপদেষ্টার সাম্প্রতিক কোনো বক্তব্য বা বিদেশ সফরকালে দেওয়া বিবৃতি। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রচারিত ভিডিওটি একেবারেই নতুন নয়, বরং পুরোনো বক্তব্যের একটি অংশকে কাটাছেঁড়া করে নতুন করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
ফ্যাক্টচেক সংস্থা ‘বাংলাফ্যাক্ট’ জানিয়েছে, ভাইরাল হওয়া এই ভিডিওটি মূলত ২০২৫ সালের ২১ জুলাইয়ের একটি ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। ওইদিন উত্তরা এলাকার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাশে একটি বিমান দুর্ঘটনা ঘটে, যা নিয়ে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। দুর্ঘটনার পরদিন প্রধান উপদেষ্টা এক ভিডিওবার্তার মাধ্যমে নিহতদের প্রতি শোক প্রকাশ করেন এবং দুর্ঘটনার তদন্তে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।
সেই ভিডিওর একটি অংশ কেটে নতুন প্রেক্ষাপটে ব্যবহার করা হচ্ছে। সম্প্রতি এটি বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে প্রচার করে এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে যেন এটি কোনো সাম্প্রতিক বক্তব্য। এতে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছেন এবং ঘটনাটি নিয়ে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছেন।
বাংলাফ্যাক্টের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভিডিওর কাটছাঁট অংশের সঙ্গে মূল বক্তব্যের সম্পর্ক নেই। এর মাধ্যমে বর্তমান প্রেক্ষাপটে মিথ্যা দাবি প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চলছে। সংস্থাটি বলেছে, “পুরোনো ঘটনার বক্তব্যকে নতুন ঘটনার সঙ্গে জুড়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে, যা তথ্য বিকৃতি হিসেবে গণ্য।”
এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেকোনো তথ্য বা ভিডিও শেয়ার করার আগে তার উৎস যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। ভুল তথ্য বা বিকৃত ভিডিও ছড়ানো কেবল সমাজে বিভ্রান্তি নয়, বরং দায়িত্বশীল যোগাযোগের মানও ক্ষুণ্ন করে।
তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের প্রচারণা রোধে সবার সচেতনতা বাড়ানোই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। সঠিক তথ্য যাচাই করে সচেতনভাবে শেয়ার করলেই বিভ্রান্তির বিস্তার রোধ সম্ভব।
স্টাফ রিপোর্টার 






















