রাজধানীর রামপুরায় গত বছরের গণঅভ্যুত্থানের সময় পুলিশের গুলিতে নিজের মা নিহত এবং ছয় বছরের ছেলে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়ার মর্মান্তিক বর্ণনা দিয়েছেন মো. মোস্তাফিজুর রহমান। সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাক্ষ্য দিতে এসে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
সাক্ষ্য দিতে গিয়ে মোস্তাফিজ জানান, “বাবাকে খাবার দিতে বাসা থেকে বের হয়েছিলাম। ছেলে আইসক্রিম খেতে চাইলে মা ও ছেলেকে নিয়ে নিচে নামি। হঠাৎ গেটের বাইরে থেকে পুলিশের ছোড়া গুলি আমার ছেলের মাথা ভেদ করে মায়ের পেটে লাগে। কিছুক্ষণ পর মা মারা যান, ছেলে এখন একপাশ প্যারালাইজড।”
তিনি আরও বলেন, গুলির পরপরই ছেলে মুসাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। পরে জানতে পারি, একই গুলিতে মা গুরুতর আহত হয়েছেন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। ঢাকা মেডিকেল থেকে মায়ের মরদেহ নিতে গেলে রামপুরা থানা পুলিশ প্রথমে অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে দীর্ঘ অনুরোধের পর মরদেহ টাঙ্গাইলের গ্রামের বাড়িতে দাফনের অনুমতি মেলে।
রামপুরার এই ঘটনায় সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা চলছে। এদের মধ্যে সাবেক এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার একমাত্র গ্রেপ্তার আসামি। অন্য চারজন— সাবেক এডিসি রাশেদুল ইসলাম, সাবেক ওসি মশিউর রহমান ও সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম— পলাতক রয়েছেন।
এদিকে, ট্রাইব্যুনাল-২-এ কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ হয়েছে। প্রসিকিউশন পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন বলেছেন, “বর্তমান ট্রাইব্যুনাল সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে কাজ করছে। কেউ আমাকে কোনোভাবে চাপ দেয়নি। আমি মনে করি না, এটি কোনো ‘ক্যাঙারু কোর্ট।’”
ট্রাইব্যুনাল আগামী ৩ নভেম্বর মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারণ করেছে।
স্টাফ রিপোর্টার 






















