নেত্রকোনার আটপাড়ায় অভিযানের নামে জুয়ার আসর থেকে লাখ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে আটপাড়া থানা পুলিশের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ- তাস খেলার সময় হঠাৎ হাজির হয় থানার এস আই আল মামুন ও এ এস আই মশিউর রহমান সুজন সহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য। অভিযান দেখিয়ে জুয়া খেলার অভিযোগে তাদের পাঁচজনকে আটক করে পুলিশ। তাদের দেহ তল্লাশি করে প্রায় লাখ টাকা লুটে নেয়। পরে মামলায় ১৪৯০ টাকা উদ্ধার দেখিয়ে তাদের আদালতে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে অভিযোগ তোলায় ভুক্তভোগীকে নানা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিচ্ছেন অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তারা।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে এ ঘটনায় হায়দার মিয়া নামে এক ভুক্তভোগী পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করেছেন।
এর আগে গত রোববার রাতে উপজেলার যোগিরনগুয়া এলাকা থেকে জুয়া খেলার অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করে পুলিশ। তাদের থেকে প্রায় লাখ টাকা হাতিয়ে নিলেও পরদিন তাদের ১৪৯০ টাকা উদ্ধার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
আটকরা হলেন, উপজেলার যোগিরনগুয়া গ্রামের আ. কাশেম (৫০), অলি (৪০), আটাশিয়া গ্রামের জজ মিয়া (৪০), মো. হায়দার মিয়া (৪৮) ও মহেশ্বরখিলা গ্রামের মোঃ সাফায়েত হোসেন (২৮)।
তবে গ্রেফতার হওয়া আসামিদের দাবি, জব্দ তালিকায় যে অর্থ দেখানো হয়েছে, তার সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই।
তারা অভিযোগ করেন, অভিযানে অংশ নেওয়া এস আই আল মামুন ও এ এস আই মশিউর রহমান সুজন তাদের ব্যক্তিগত টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
অভিযানে আটককৃত মোঃ হায়দার মিয়া বলেন, “আমার কাছে খেলার সময় ৩৩ হাজার ৪০০ টাকা ছিল। পুলিশ আমাকে আটক করার সময় সেই টাকা নিয়ে নেয়, অথচ তালিকায় দেখায় মাত্র ১ হাজার ৪৯০ টাকা। আমি অভিযোগ জানালে উল্টো পুলিশ বাড়িতে এসে আমাকে হুমকি দিয়ে যায়। বলে— ‘সাংবাদিকরা তাদের কিছু করতে পারবে না, আমাকে এর মজা দেখিয়ে ছাড়বে।’”
অভিযোগ রয়েছে, হায়দার মিয়া অভিযোগ জানানোয় এস আই মামুন এখন তাকে একটি পুরনো অপমৃত্যুর মামলায় জড়ানোর হুমকি দিচ্ছে।
অন্য আসামিরাও পুলিশের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলেছেন।
আটককৃত মোঃ সাফায়েত হোসেন বলেন, “আমার কাছে ১২ হাজার ৫০০ টাকা ছিল। পুলিশ ভিডিও করার আগে সেটা পকেটে ঢুকিয়ে নেয়। বলে, যদি বলি আমার কাছে টাকা ছিল, তাহলে বড় মামলায় ঢুকিয়ে দিবে। আমরা পুলিশের রোষানলে পড়তে চাইনা। জানেন ই তো, আকাশের যত তারা, পুলিশের তত ধারা”
আটককৃত মোঃ জজ মিয়া বলেন—“আমার কাছে ১৯ হাজার ৭০ টাকা ছিল। পুলিশ দুইজনকে আলাদা করে নিয়ে যা বলবে তা ভিডিওতে বলতে বাধ্য করে। না বললে নাকি বড় মামলায় চালান দেবে।”
আটক আব্দুল কাশেম বলেন—“আমার কাছে ছিল ১৫ হাজার ৫০০ টাকা। পুলিশ টাকা রেখে আমাদের ভিডিও সাক্ষাৎকারে নির্দেশনা দিয়ে বলেছে, না বললে পরিণতি খারাপ হবে।”
এদিকে মামলার স্বাক্ষী নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্বাক্ষী রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। পুলিশ ডেকে তুলে কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। কী হয়েছিল, আমি কিছুই জানি না।”
আরেক স্বাক্ষী মুহিতের বাবা জানান—“আমি এবং আমার ছেলে ঘরে ছিলাম। ঘটনাস্থলে যাইনি। অথচ পুলিশ আমার ছেলের কাছ থেকে জোর করে লিখিত নেয়।”
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সরল মিয়া বলেন, “পুলিশ যখন অভিযান চালায়, তখন এলাকাবাসীর কেউ ঘটনাস্থলে ছিল না। বাইরে থেকে ভিতরে কী হয়েছে তা কেউ জানতে পারেনি।”
এ বিষয়ে এসআই আল মামুন বলেন, টাকা আত্মসাতের বিষয়টি মিথ্যা। তাদের কাছে যা পেয়েছি তাই উদ্ধার দেখানো হয়েছে।
আটপাড়া থানার ওসি আশরাফুজ্জামান বলেন, অফিসারার ঘটনাস্থলে যা পেয়েছে তাই দিয়ে চালান দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সুপার মীর্জা সায়েম মাহমুদ বলেন, বিষয়টি অবহিত হয়েছি। ঘটনা তদন্ত করে সত্যতা মিললে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর অভিযোগ মিথ্যা হলে অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





















