ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় পুলিশ হেফাজতে এক যুবকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। নিহত যুবকের নাম আব্দুল্লাহ (২৩)। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার দুপুরে উপজেলার বাড়াইল গ্রামে চুরির অভিযোগে তাকে আটক করা হয়। পরে স্থানীয় জনতা তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। তবে পরিবারের দাবি, থানায় নেওয়ার পর পুলিশ তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে।
অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের সেই জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আব্দুল্লাহ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, এটি সরাসরি পুলিশের নির্যাতনের ফল। নিহতের ভাই বাদী হয়ে নবীনগর থানায় চারজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ ও আরও কয়েকজন সদস্য।
এ ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়। বিক্ষুব্ধ জনতা ক্যাম্প ঘেরাও করার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন বিশেষ ব্যবস্থা নেয়। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় পুলিশ ক্যাম্পটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেনা মোতায়েন করা হয়।
এদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে দাবি করা হয়েছে, যুবক অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। তবে স্থানীয়রা এ বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে জানান, আব্দুল্লাহ সুস্থ-সবল ছিলেন এবং আটক হওয়ার আগে তার কোনো শারীরিক সমস্যা ছিল না। ফলে সাধারণ মানুষ পুলিশের বক্তব্যকে আড়াল করার চেষ্টা হিসেবে দেখছে।
মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা দেশের আইনি কাঠামো ও মানবাধিকারের জন্য গুরুতর হুমকি। এ ঘটনায় স্বচ্ছ তদন্ত ও দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। অন্যদিকে সাধারণ মানুষ প্রশাসনের প্রতি আস্থা রাখতে পারছেন না।
বর্তমানে পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। একদিকে শোকাহত পরিবার ন্যায়বিচার দাবি করছে, অন্যদিকে উত্তেজিত জনতা ঘটনার সঠিক তদন্ত চাচ্ছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে সরকার ও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।
স্টাফ রিপোর্টার 




















